


রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: বিধানসভা ভোটে এখনো কোচবিহার উত্তর আসনে খাতা খুলতে পারেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে পালা বদলের পর বিগত তিনটি বিধানসভা ভোটেই এই আসনে পরাজয়ের মুখ দেখেছে শাসক শিবির। তবে এবার কোচবিহার উত্তরে জোড়াফুল ফোটাতে মরিয়া ঘাসফুলের প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়। শাসক দলের এই রাজবংশী মুখকে সামনে রেখেই এই আসন দখলে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। ফলে কোচবিহার উত্তরের এই শক্ত রাজনীতির মাটিতে প্রথমবার জোড়াফুল ফোটানোই চ্যালেঞ্জ পার্থপ্রতিমের। যদিও হুংকার দিয়ে বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায়ের দাবি, যতই চেষ্টা করুক, সফল হবে না ওরা।
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে জোরদার জনসংযোগে নেমেছেন শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী থেকে শুরু করে এসআইআর’কে হাতিয়ার করে দিনরাত ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন পার্থপ্রতিম। চলছে বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচার, পাড়া বৈঠক। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রচারের ট্যাগ লাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে— ‘এবার জিতবে উত্তর’।
বর্তমানে এই আসনটি বিজেপির দখলে। একুশের ভোটে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন প্রার্থী ছিলেন এখানে। তাঁকে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার ভোটে বিজেপির প্রার্থী সুকুমার রায় পরাজিত করেন। বামেদের দখলে থাকা কোচবিহার উত্তর আসনে ফোটে পদ্ম। এর আগে ২০১১ সালে প্রসেনজিৎ বর্মন ও ২০১৬ সালে পরিমল বর্মন তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দু’বারই ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী নগেন্দ্রনাথ রায়ের কাছে পরাজিত হন।
তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম বলেন, আগে এই আসনে আমাদের দলের কেউ না জিতলেও এবার জয় নিশ্চিত। প্রচারে গিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হওয়ায় তারা এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবে। ভোটাররা সেটাই বলছেন। তাই জয় তৃণমূলেরই হবে।
যদিও বিজেপির কোচবিহার উত্তরের প্রার্থী সুকুমারবাবু বলেন, এই কেন্দ্র বিজেপির শক্তঘাঁটি। এখানে ঘাসফুল নয়, পদ্মই ফুটবে। ওরা যতই চেষ্টা করুক, লাভ হবে না। এখান থেকে এবারে ৫০ হাজার ভোটে জয়ী হব।
অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী প্রণয় কার্জি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুই সরকারের দুর্নীতি আর গরিব শোষণের রাজনীতি মানুষ বুঝে ফেলেছে। তাই মানুষ আবার বামন্থীদের দিকে ঝুঁকছে।