


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রবীণ এবং নবীনদের নিয়েই পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা তৈরি হল। পাঁচজন বিধায়ককে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। আউশগ্রাম, রায়না, পূর্বস্থলী উত্তর, মেমারি, জামালপুর এবং গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন মুখ আনা হয়েছে। চমক দেওয়া হয়েছে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছেন বসুন্ধরা গোস্বামী। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ, যুব তৃণমূলের সভাপতিকে এবার প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় দু’জন মহিলা রয়েছেন। দু’জনই এবার প্রথম টিকিট পাচ্ছেন।
মেমারির মধুসূদন ভট্টাচার্যকে টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার। আউশগ্রামে নতুন মুখ আনা হয়েছে। অভেদানন্দ থাণ্ডারকে সরিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। ভাতারের মানগোবিন্দ অধিকারীর পরিবর্তে ভোটে লড়ছেন শান্তনু কোনার। জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝিকে গলসির প্রার্থী করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রার্থী নেপাল ঘোড়ুইকে প্রার্থী করা হয়নি। জামালপুরের প্রার্থী হচ্ছেন ভূতনাথ মালিক। রায়নার শম্পা ধাড়াও টিকিট পাননি। এই বিধানসভা কেন্দ্রে মন্দিরা দলুইকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি জেলা পরিষদের সদস্যা।
জেলার দুই প্রবীণ নেতা স্বপন দেবনাথ, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও এবার প্রার্থী হয়েছেন। কাটোয়া থেকে লড়বেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। স্বপনবাবু পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ভোটে লড়বেন। বর্ধমান দক্ষিণে এবারও প্রার্থী হয়েছেন খোকন দাস। মঙ্গলকোট বিধানসভার প্রার্থী হলেন অপূর্ব চৌধুরী। মন্তেশ্বরের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীই এবারও এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন। খণ্ডঘোষের প্রার্থী বদল হয়নি। নবীনচন্দ্র বাগকে এবারও প্রার্থী করেছে দল। কেতুগ্রাম, কালনা এবং বর্ধমান উত্তরে প্রার্থী বদল করা হয়নি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্লকের নেতাদের মতামত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একাধিক সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে, যাঁরা টিকিট পাননি তাঁদেরকে অন্যভাবে কাজে লাগানো হবে। প্রার্থীকে জেতাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর মন্তেশ্বরে শাসকদলের দুই গোষ্ঠী কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। এধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর সব প্রার্থীই প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। দেওয়াল লিখনও শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণের প্রার্থী খোকন দাস বলেন, আরও পাঁচ বছর মানুষের হয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে দল। মানুষের স্বার্থে কাজ করব। মেমারির প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা মাথা পেতে পালন করব। সবাইকে একসঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাব।