Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিলপাড়া: ঘুমপাড়ানি গুলি করে হনুমানকে খাঁচাবন্দি করল বনদপ্তর

হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সিউড়ি শহর লাগোয়া তিলপাড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। গত কয়েক দিনে প্রায় ২৫জন বাসিন্দা হনুমানের কামড়ে জখম হয়েছেন।

তিলপাড়া: ঘুমপাড়ানি গুলি করে হনুমানকে খাঁচাবন্দি করল বনদপ্তর
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সিউড়ি শহর লাগোয়া তিলপাড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। গত কয়েক দিনে প্রায় ২৫জন বাসিন্দা হনুমানের কামড়ে জখম হয়েছেন। ঘটনায় আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছিল। হনুমানের অত্যাচারের খবর পেয়ে বনদপ্তর সেটিকে পাকড়াও করতে আসরে নামে। একাধিক জায়গায় খাঁচা পাতা হয়েছিল। টানা প্রায় ১০দিন ধরে হনুমানের পিছু নিয়েছিলেন বনকর্মীরা। সোমবার হনুমানটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা হয়েছে। স্বস্তি পেয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement

বনদপ্তরের কর্তাদের একাংশ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। তাঁদের দাবি, হনুমানটি মানসিকভাবে সুস্থ। তবে খাদ্যাভ্যাস বদলের জেরেই হনুমানটি জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকেছিল। চাহিদা অনুসারে খাবার না পেলেই হামলা চালাত। এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কোনও বন্য পশুকে রুটি, বিস্কুট, কেক খাইয়ে খাদ্যাভ্যাস বদল না করার আর্জি জানানো হচ্ছে বনদপ্তরের তরফে। এনিয়ে এলাকাজুড়ে মাইকিংও করা হচ্ছে। উদ্ধার করা হনুমানটি বনকর্মীরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আগামী দিনে হনুমানটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
সাধারণত জঙ্গলের ফল, খাবার খেতেই অভ্যস্ত হনুমান। তবে এখন হনুমান নজরে এলেই স্থানীয়দের একাংশ নানা ধরনের ফল, বিস্কুট ও কেক খেত দিচ্ছেন। এতে ধীরে ধীরে তাদের খাদ্যাভ্যাস বদল হচ্ছে। সেইসঙ্গে খাবার খুঁজে খাওয়ার অভ্যাসও তারা হারিয়ে ফেলছে। তার জেরেই কিছু হনুমান কার্যত জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়েই বসবাস শুরু করছে। লোকালয়ে হাতের নাগালে খাবারে নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। এতে বিপদ আরও বাড়ছে। কারণ, খিদে মেটাতে মুখরোচক খাবার সবসময় তারা পাচ্ছে না। ফলত খিদের জ্বালায় তারা হামলার পথ বেছে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ হনুমানের হামলার শিকার হচ্ছেন। মানুষের শখের বশে তাদের খাদ্যাভ্যাস বদলে দেওয়াটাই হনুমানের হামলার মূল কারণ।
বনদপ্তরের সিউড়ি রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, খাদ্যাভ্যাস বদলের জেরেই হনুমানটি লোকালয়ে থাকত। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার জন্য হামলা চালাত। আমরা হনুমানটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আগামীতে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা কোনওভাবেই বন্য পশুদের খাদ্যাভ্যাস বদল না করেন। ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর সদস্য দীনবন্ধু বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষ শখের বসে তাদের নানা মুখরোচক খাবার দিয়ে থাকে। তার জেরে ধীরে ধীরে তাদের খাদ্যাভ্যাস বদল হতে থাকে। সেইসঙ্গে খাবার খুঁজে খাওয়ার অভ্যাসও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চাহিদা অনুসারে খাবার না পেলেই হামলার পথ খুঁজে নেয়। এজন্য সাধারণ মানুষই দায়ী। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ