সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর আগেই শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে এক নতুন অতিথি আসছে। মূলত বাঘের জিনগত বৈচিত্র বজায় রাখতে আনা হচ্ছে একটি স্ত্রী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বুধবার আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী ও পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এই সুখবর শুনিয়েছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।
বেঙ্গল সাফারিতে খুব শীঘ্রই কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে এই বাঘিনীকে আনা হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল জু অথরিটির অনুমোদন মিলেছে বলে জানান বনদপ্তরের এক আধিকারিক। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগলে আসন্ন দুর্গাপুজোর পর্যটন মরশুমেই পর্যটকরা বেঙ্গল সাফারিতে এই নতুন অতিথিকে দেখতে পাবেন।
বনদপ্তর ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বাঘের জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং সুস্থ প্রজনন নিশ্চিত করা। বেঙ্গল সাফারি বাঘের সফল প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একই বংশের বাঘের মধ্যে বারবার প্রজনন চললে জিনগত সমস্যা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের আশঙ্কা থাকে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে ২০১৯ সালে বেঙ্গল সাফারি থেকে ‘স্নেহাশিস’ নামে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া গত জুনে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্কের সঙ্গে বাঘ বিনিময়ও সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে বেঙ্গল সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা ১৪। অতীতে ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানায় এক জোড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠিয়ে বিনিময়ে স্পেকট্যাকল ল্যাঙ্গুর ও সিংহ আনা হয়েছিল। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঁচটি বাঘ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানান, আলিপুর থেকে আনা বাঘটিকে প্রথমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরই তাকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বেঙ্গল সাফারিতে বাঘের জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।