


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক(১৯) খুনে জেল হেফাজতে থাকা দেশরাজ সিংকে নিয়ে টিআই প্যারেড করবে পুলিস। আজ, বুধবার কৃষ্ণনগর সংশোধনাগারে টিআই প্যারেড হওয়ার কথা। সেইমতো দেশরাজকে শনাক্ত করতে ঈশিতার বাড়ির লোককেও আনা হবে। তারপর দেশরাজকে কৃষ্ণনগর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিস। পাশাপাশি রাজস্থানের জয়সলমীরে দেশরাজের বাবার রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিং কে হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাকেও কৃষ্ণনগরে আনা হবে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, খুনের খুঁটিনাটি জানতে ধৃতকে পুলিস হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
খুনের উদ্দেশ্য সহ তদন্ত প্রক্রিয়া অনেকটাই শেষ করে ফেলেছে পুলিস। যথাসম্ভব দ্রুত চার্জশিট তৈরি করে ট্রায়াল প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে পুলিস। বর্তমানে খুনে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করাই পুলিসের লক্ষ্য। গোয়েন্দাদের ধারণা, খুনের পর নৈহাটি হয়ে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে উত্তরপ্রদেশ যাওয়ার পথেই কোথাও পিস্তলটি ফেলে দিয়েছে দেশরাজ। খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র দেশরাজ কোথা থেকে পেল, তা পুলিস জানতে চাইবে। এমনকী, এই ঘটনায় দেশরাজের মা গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়ায় ঘরের মধ্যে ঢুকে গুলি করে ঈশিতাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে প্রেমিক দেশরাজ। তারপর সে কাঁচরাপাড়ার কয়েকজন বন্ধুকে বিষয়টি জানিয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। এরপর বাড়ির লোকের মদতে সাত দিন উত্তরপ্রদেশে গা ঢাকা দিয়ে থাকে দেশরাজ। এই লুকোচুরি পর্বে বাহুবলীদের মদত নেওয়া, নানাভাবে পুলিসকে বিভ্রান্ত করা, দেউড়িয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রভাবিত করে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছিল দেশরাজ ও তার পরিবার।
নতুন মোবাইলে সিম ব্যাবহার না করেও অযোধ্যার এক হোটেলের ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল সে। তা সত্ত্বেও বড়সড় সাফল্য পায় কৃষ্ণনগর পুলিস জেলা। প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে নেপাল সীমান্ত থেকে দেশরাজকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানার পুলিস। আগেই গুজরাতের জামনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দেশরাজের মামা কুলদীপ সিংকে। পুলিস জানতে পরেছে, কুলদীপের কথাতেই তার মেয়ে দেশরাজের ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দিয়েছিল। খুনের ঘটনার পর দেশরাজের বাবা ছেলেকে টাকাও পাঠিয়েছিল।