


সংবাদদাতা, কাঁথি: এবার বিধানসভা ভোটে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লক এলাকা থেকেই তিনজন তৃণমূল নেতা প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা পটাশপুরের বিদায়ী বিধায়ক উত্তম বারিক দেশপ্রাণ ব্লকের সরদা পঞ্চায়েতের গোট সাউড়ির বাসিন্দা। তিনি এবার চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্লকের বসন্তিয়া পঞ্চায়েতের পূর্ব মুকুন্দপুরের বাসিন্দা জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ তরুণ জানা এবার দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আবার ব্লকেরই আঁউরাই পঞ্চায়েতের কুলঞ্জরার বাসিন্দা দেবাশিস ভুঁইয়া উত্তর কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী। তিনি বর্তমানে দলের ব্লক সভাপতিও।
দেশপ্রাণ ব্লকটি উত্তর কাঁথি কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। তরুণবাবু একুশের নির্বাচনে উত্তর কাঁথি থেকে প্রার্থী হন। যদিও সেবার তিনি পরাজিত হন। তবে দেবাশিস এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন। তিন প্রার্থীই নাম ঘোষণার পরই জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। যদিও এর মধ্যে উত্তর কাঁথি ও দক্ষিণ কাঁথি বিজেপির দখলে। দু’টি আসনই পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অলআউট ঝাঁপিয়েছেন দুই প্রার্থী। তবে একই ব্লক থেকে তিনজন নেতা প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে না হলেও দলের একটি অংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অন্য বিধানসভার দীর্ঘদিনের সংগঠক ও ভূমিপুত্র নেতাদের প্রতি বঞ্চনা করা হয়েছে। বহু বছর ধরে যাঁরা মাটি আঁকড়ে দলকে শক্তিশালী করেছেন, তাঁদের উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট একটি ব্লককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এমনই অভিযোগ উঠছে নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে।
এনিয়ে দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা পটাশপুরের তৃণমূল প্রার্থী পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন,শীর্ষ নেতৃত্ব যাঁদের যোগ্য এবং উপযুক্ত হিসেবে মনে করছেন, তাঁদেরই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এখানে কে, কোন ব্লকের বাসিন্দা তা দেখা হয়নি। যাঁরা এসব ভাবছেন, কিংবা ক্ষোভপ্রকাশ করছেন, তা না করে বরং প্রার্থীদের সমর্থনে তাঁদের জোরদার প্রচারে নেমে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিন প্রার্থীও বলছেন, আমরা ইতিমধ্যে পুরোদমে প্রচার শুরু করেছি। আসনগুলি জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেওয়াই আমাদের প্রথম ও লক্ষ্য।