Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনলাইন বেটিংয়ের অভিযোগে তৃণমূল নেতা সহ পাকড়াও তিন

রামপুরহাটে অনলাইন বেটিং চক্রের অভিযোগে তৃণমূল নেতা এহসান হাবিব সহ তিনজন গ্রেপ্তার। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

অনলাইন বেটিংয়ের অভিযোগে তৃণমূল নেতা সহ পাকড়াও তিন
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ক্রিকেটে অনলাইন বেটিং চক্র চালানোর অভিযোগে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের রামপুরহাট শহর সভাপতি এহসান হাবিব ওরফে হাসান সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার রামপুরহাটের কালিসারা পাড়ার একটি বাড়িতে অনলাইন ক্রিকেট জুয়া খেলা চালানোর সময় তাঁদের হাতেনাতে ধরা হয় বলে পুলিশের দাবি, যা নিয়ে শহরজুড়ে শোরগোল পড়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে। শনিবার ধৃতদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ জুয়া ও পুরস্কার প্রতিযোগিতা আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ সহ একাধিক ধারা যুক্ত করে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিচারক ধৃতদের পাঁচদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিনই পৃথক অভিযোগে এক পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রাক্তন উপপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, রামপুরহাটের কালিসারা পাড়ায় রাজীব মণ্ডলের বাড়িতে অনলাইন ক্রিকেট জুয়া খেলার আসর বলেছিল। খবর পেয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিশ। হাতেনাতে রামপুরহাটের কলেজপাড়ার বাসিন্দা এহসান হাবিব, রাজীব ও সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মোবাইল ফোন এবং ওই ঘর থেকে বিসিসিআইয়ের একটি জাল সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এহসান জেরায় স্বীকার করেছে যে, তারা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের লিঙ্কের মাধ্যমে আইডি কেনাবেচা করে এই অনলাইন ক্রিকেট জুয়া চালাত। জুয়ার টাকা অনলাইনে এবং নগদে লেনদেন করা হত। আস্থা অর্জন করতে তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করত। 
পুলিশের আরও দাবি, এহসান স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে, এই পুরো বেটিং চক্রের মূল পান্ডা রামপুরহাটের একটি নার্সিংহোমের মালিক। এছাড়াও বগটুই গ্রামের বাসিন্দা সাফি শেখ সহ আরও কয়েকজন এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এদিন আদালতে তোলার সময় হাবিব বলেন, পরে বলব। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়া চক্রের সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ পেতে এবং তাদের গ্রেপ্তার করতে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।
বিজেপি নেতা সুশান্ত দে-র অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেখা হাজরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারক চারদিন পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছেন। বিজেপি নেতা সুশান্ত দে অভিযোগ করেন, মাসছয়েক আগে পঞ্চায়েতের প্রধান, সেক্রেটারি এবং আরও কয়েকজন মিলে যোগসাজশ করে ৩০টিরও বেশি গাছ এবং ১৫টিরও বেশি টিউবওয়েল তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই টাকা পঞ্চায়েতের তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। শনিবার ধৃত প্রধানকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। 
এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি সুবোধ ধরকে কল করা হলেও ধরেননি। পরে তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
বছর পাঁচেক আগে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারাপীঠের সাহাপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান জিয়াউদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই পঞ্চায়েতের নুরুদ্দিপুরের বাসিন্দা টুটু শেখ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুক্রবার জিয়াউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন ধৃত প্রাক্তন উপপ্রধানকে রামপুরহাট আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী বুধবার পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ