নাগোয়া: এশিয়ান গেমসে সোনার দিন! বুধবার ৪টি সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। তারমধ্যে তিনটিই তিরন্দাজি থেকে। কমপাউন্ড ইভেন্টের পুরুষ, মহিলা এবং মিক্সড দলগত বিভাগে সফল ভারতীয়রা। উল্লেখ্য, এই তিন বিভাগে গতবারের এশিয়াডেও সোনা জিতেছিল ভারত। দিনের চতুর্থ স্বর্ণপদকটি আসে শ্যুটিংয়ে। মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্টে নীরু ধান্ডা ও কাইনান চেনাই চ্যাম্পিয়ন হন। চলতি আসরে এটি নীরুর দ্বিতীয় সোনা। মঙ্গলবারই মহিলাদের ট্র্যাপে সেরার শিরোপা জেতেন তিনি। পাশাপাশি মহিলাদের দলগত ট্র্যাপেও রুপোজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এবারের এশিয়াডে এখনও পর্যন্ত দেশের সফলতম অ্যাথলিট নীরুই।
এদিন আরও তিনটি পদক যোগ হয়েছে ভারতের তালিকায়। বক্সিংয়ের ৬০ কেজি বিভাগে প্রিয়া ঘানঘাস ও ৯০ কেজি বিভাগে কপিল পোখারিয়া আনেন ব্রোঞ্জ। কুস্তিতে পুরুষদের গ্রেকো-রোমান ৮৭ কেজি বিভাগে সুনীল কুমারও পান ব্রোঞ্জ। একাদশ দিনের শেষে ভারতের মোট পদকসংখ্যা ৬০। এরমধ্যে সোনা ১০টি, রুপো ২১টি, ব্রোঞ্জ ২৯টি। বুধবারের চারটি সোনার সুবাদে তালিকায় দশ নম্বর থেকে সাতে উঠে এসেছে টিম ইন্ডিয়া।
বুধবার সকালেই তিরন্দাজিতে আসে দুটো সোনা। জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপারথি ও প্রীতিকা প্রদীপ আনেন প্রথম সাফল্য। ফাইনালে চীনের উনিয়ের, ইউ ওয়াং ও ফানগাও ওয়েইকে ভারতের ত্রয়ী টানটান উত্তেজনার মধ্যে হারান ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে। টিম ইন্ডিয়ার এই স্কোর স্পর্শ করে বিশ্বরেকর্ডকে।
এরপর কমপাউন্ড মিক্সড ইভেন্টে চিকিথা তানিপারথি ও সাহিল যাদব রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কোরিয়ার জুনগুন পার্ক ও চোই ইউনগিউকে হারান মাত্র ১ পয়েন্টে। ম্যাচের ফল ১৫৮-১৫৭। এই জয়ের সুবাদে চিকিথা ও সাহিল ওলিম্পিকসের যোগ্যতাও অর্জন করেন। লস এঞ্জেলস ওলিম্পিকে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হবে তিরন্দাজির কমপাউন্ড মিক্সড ইভেন্ট। ভারতই প্রথম দেশ হিসাবে তাতে অংশগ্রহণের টিকিট পেল।
এরপর তিরন্দাজিতে পুরুষদের ট্র্যাপের ফাইনালেও হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সাহিলের সঙ্গে কুশল দালাল ও গণেশ মণিরত্নম পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাঘাতে ২৩৮-২৩৭ ব্যবধানে হারান চীনের জিয়াহাও লিয়াও, জিনওয়াই লিউ ও জিনগিউ শি’কে। ভারতের চতুর্থ সোনা আসে এশিয়ান রেকর্ড গড়ে। শ্যুটিংয়ের মিক্সড ট্র্যাপে নীরু ও কাইনান জুটি ফাইনালে ৩৪ পয়েন্ট স্কোর করেন। কাতারের রে বাসিল ও মহম্মদ আল-রুমাইহি থেমে যান ৩২ পয়েন্টে। চলতি আসরে দ্বিতীয় সোনা জেতার রাস্তা অবশ্য সহজ ছিল না নীরুর। পরপর দু’দিন ফাইনালের পাহাড়প্রমাণ চাপ সামলাতে হয়েছে তাঁকে। মঙ্গলবার তো কনকনে ঠান্ডা আর প্রচণ্ড বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তিন ঘণ্টা থাকতে হয়েছিল শ্যুটিং রেঞ্জে। এদিন সোনা জয়ের পর নীরু বলেন, ‘আমরা টানা পাঁচ-ছয়দিন ধরে শ্যুটিং করে চলেছি। তাই নতুন পরিবেশেও শরীর, মন ধাতস্থ হয়েই গিয়েছিল। ক্লান্তি যে ছিল না, তা নয়! তবে লক্ষ্যে অনড় থেকে নিজেকে উদ্দীপ্ত করে গিয়েছি সব সময়। এক-আধটা টার্গেট মিস হলেও ভেঙে পড়িনি। ফোকাস হারাইনি।’
এদিকে, বক্সিংয়ে সোনার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লাভলিনা বড়গোঁহাই। মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের সেমি-ফাইনালে নাতালিয়া বোগদানোভাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন তিনি। শুক্রবার বক্সিংয়ে সোনার জন্য রিংয়ে নামবেন আরও দুই বক্সার পরভিন হুদা (মহিলাদের ৬৫ কেজি) ও অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল (পুরুষদের ৮০ কেজি)।