নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভুয়ো চিকিৎসকের অপারেশনের পর সন্তানকে হারিয়েছেন মন্তেশ্বরের শিল্পা রায়। চার বছরের সন্তান অরণ্যকে হারিয়ে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। বিচারের আশায় প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। কিন্তু, এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাঘববোয়ালরা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উলটে হুমকি ফোন পেলেন শিল্পাদেবী। রবিবার রাতে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, এআই দিয়ে ছবি এডিট করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মন্তেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। কিন্তু, হুমকিদাতাও এখনো অধরা রয়ে গিয়েছে। শিল্পাদেবী বলেন, আমার চার বছরের শিশুকে খুন করা হয়েছে। ভুয়ো ডাক্তারকেও পুলিশ এখনো ধরল না। নার্সিংহোমেরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। দোষীরা আদৌও শাস্তি পাবে কি না জানি না।
মৃত শিশুর এক আত্মীয় বলেন, শুনছি ‘সেটিং’য়ের চেষ্টা চলছে। টাকা পয়সা দিয়ে ওরা যদি রেহাই পেয়ে যায় তাহলে আমরা যাব কোথায়? তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি আমাদের ভরসা রয়েছে। তিনি দোষীদের ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করব। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো চিকিৎসক এবং নার্সিংহোমের অংশীদাররা কলকাতায় রয়েছেন। তাঁরা সবাই মিলে একটি ফ্ল্যাটে রয়েছেন। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, এখন কেন অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হল না, তা বুঝতে পারছি না। পুলিশের প্রতি মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। এত বড় অন্যায় মেনে নেওয়া যাবে না। অভিযুক্তরা রেহাই পেয়ে গেলে আবার তারা অন্যায় করার সুযোগ পাবে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচজন ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্টেশন সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিগত ১৭ বছরে মেডিকেল কাউন্সিলে জমা হওয়া সমস্ত নথি যাচাই পর্ব চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো অনেক ভুয়ো চিকিৎসক চুটিয়ে প্র্যাকটিস করছে। তাদের অনেকেই মাধ্যমিকের গণ্ডি টপকাতে পারেনি। দালালরা তাদের কাছে রোগী পৌঁছে দিচ্ছে। ভুয়ো চিকিৎসকদের থেকে এক শ্রেণির মেডিকেল রিপ্রেজেনটিভও ফায়দা লুটছেন বলে অভিযোগ। ভুয়ো চিকিৎসকরা তাঁদের দাবিমতো ওষুধ লিখছে। কয়েক দিন আগে এমনই এক ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল হকের হাতে চার বছরের অরণ্যর মৃত্যু হয়। ফাইমোসিস অপারেশন করার পরই শিশুর মৃত্যু হয়। অজ্ঞান করার ডাক্তারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর নামেও স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যদপ্তর সাইদুলের রেজিস্টেশন বাতিল করা ছাড়া প্রশাসন আর কোনো ব্যবস্থায় নেয়নি। শিল্পাদেবী বলেন, আমার মতো আর কোনো মায়ের কোল যাতে খালি না হয়ে যায় সেজন্য লড়াই চালিয়ে যাব। আমরাও দেখতে চাই পুলিশ শেষ পর্যন্ত কী করে? অভিযুক্তদের পুলিশ কেন ধরছে না, তা নিয়েও গভীর রহস্য রয়েছে।