ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: পুরী, বেনারস, রাঁচি — ভিন রাজ্যের এই তিন শহরের সঙ্গে বাঙালিদের যোগ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ আর ঝাড়খণ্ডের নানা প্রান্ত বহু বছর ধরে বাঙালিদের ঠিকানা। একইসঙ্গে পুরীর জগন্নাথদেব, বেনারসের বাবা বিশ্বনাথ আর রাঁচির রাজরাপ্পা আমাদের প্রতিকূলতা উতরে দেওয়ার প্রার্থনার সাক্ষী থেকেছে। বাংলার মতো এই তিন শহরেও দুর্গাপুজো হয় ঘটা করে। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি বা জামশেদপুরে তো রীতিমতো থিমের বাহার অনেকাংশেই কলকাতাকে হার মানায়। আর পুরীতে দুর্গা মায়ের আরাধনা হয় গোসানি পুজো হিসাবে। বেনারসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মুখোপাধ্যায়দের দুর্গাবাড়ি। এছাড়া সেখানেও রয়েছে পাড়ার ক্লাবে ক্লাবে থিম পুজোর হিড়িক।
প্রতিবারের মতো এবারেও রাঁচির দুর্গাবাটিতে হবে উমার আরাধনা। সাবেকিয়ানার পাশাপাশি এই পুজো রাঁচির মানুষের যেন ঘরের পুজো। তবে থিমপুজোর জমকেও পিছিয়ে নেই এই শহর। বখরিবাজারে ২ কোটি টাকার বাজেট। বিশাল মণ্ডপসজ্জায় দেখানো হবে তামিলনাড়ুর থাঞ্জাভুরের বৃহদিশ্বর মন্দির। এরপর রয়েছে রাঁচি জেলা স্কুলের পুজো। সেখানকার বাজেট প্রায় দেড় কোটি। মণ্ডপ হচ্ছে বারাণসীর স্বরবেদ মহামন্দির ধামের আদলে। মাকরানা মার্বেল কাটিংয়ে তৈরি এর মণ্ডপসজ্জায় সময় লেগেছে প্রায় ২ মাস মতো। এরপর রয়েছে আরগোড়ার প্যান্ডেল। এখানে তৈরি হচ্ছে প্যারিসের ডিজনিল্যান্ড। বাজেট প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি এখানে রয়েছে রাবণ বধ অনুষ্ঠানও। রাঁচির পাশাপাশি জামশেদপুরের গোলমুড়ি, সোনারি, আমবাগান সাকচি, টেলকো কলোনি সহ বেশ কয়েক জায়গাতেই ধুমধাম করে পালিত হয় দুর্গোৎসব। এছাড়া পাশের রাজ্য বিহারের পাটনায় এটওয়ারপুরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ।
এবার সেই জগন্নাথ ধাম পুরী। শ্রীমন্দির ঘিরেই সেখানে অন্তত ১০ থেকে ১২ পুজো হয় নানা মন্দিরে। তবে সেই পুজোকে স্থানীয়রা গোসানিপুজো বলেন। তার মধ্যে বালিসাহির জন্নিসাইমায়ের পুজো ও বারামতী গোসানি মায়ের পুজো ঘিরে এলাকাবাসীর উৎসাহ থাকে সবচেয়ে বেশি। এখানে সব প্রতিমাই একেবারে সাবেকি রূপের। উল্লেখের বিষয়, বিজয়া দশমীর দিন সব প্রতিমাকেই জগন্নাথদেবের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে আসা হয়। সেই শোভাযাত্রা দেখার জন্য ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।
সবশেষে বেনারস। শহরজুড়ে থিমপুজোর ছটায় এখানে এলে মনেই হবে না যে বাংলার বাইরে কোথাও এসেছেন। শিবপুর মিনি স্টেডিয়ামে এবারের মণ্ডপসজ্জায় থাকছে জয়পুরের হাওয়া মহল। তার পাশেই শিবপুর নিউ কলোনিতে হচ্ছে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির। এছাড়া চকাঘাটের সঞ্জয় গান্ধী নগর কলোনির থিম ডিজনিল্যান্ড। জায়েতপুরের বাগেশ্বরী দেবীর মণ্ডপে থাকছে অপারেশন সিন্দুর। সেখানে প্রতিমা হচ্ছে ভারতমাতার আদলে। এছাড়া ছেতগঞ্জে হাথুয়া মার্কেটের থিম কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির, সিগরার শাস্ত্রী নগর কলোনিতে হিরণ্যকশিপের মহল। প্যান্ডেলেই দেখানো হবে হিরণ্যকশিপ বধের ইলেক্ট্রনিক শো। এছাড়া নয়ি সড়কের সনাতন ধর্ম ইন্টার কলেজের মণ্ডপের থিম বদ্রীনাথ মন্দির। প্রতিবারের মতো এবারেও এখানে থাকছে ইলেক্ট্রনিক শো। এগুলি ছাড়াও ছেতগঞ্জের নিউ ইন্ডিয়ান ক্লাব, মাছোদারি পার্ক, চৌরাশিয়া সমাজ, নাটি ইমলির নিউ ইয়ুথ স্পোর্টিং ক্লাব, ভেলুপুরের জিম স্পোর্টিং ক্লাবের উৎসবও বেনারসের নজরকাড়া পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম।



