


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শীতলকুচি: একুশের বিধানসভা ভোটের সেই অভিশপ্ত দিনের স্মৃতি আজও তাড়া করছে শীতলকুচির জোড়পাটকি গ্রামকে। বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচমকা গুলিতে ঝরে পড়েছিল তরতাজা চার চারটি প্রাণ। পাঁচবছর ঘুরে আবার বিধানসভা ভোট। সেই স্মৃতি নাড়া দিচ্ছে গোটা গ্রামকে।
আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে এবারও ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে গ্রামবাসীদের। কেমন হবে এবারের নির্বাচন? আবারো গুলি চলার মতো ঘটনা ঘটে যাবে না তো! তা নিয়েই এখন চিন্তায় গ্রামবাসীরা। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা। আমতলি এমএসকে’তে মোতায়ন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মণিরুজ্জামান, হামিদুল মিয়াঁ, ছামিয়ুল হক ও নুর আলম মিয়াঁর মৃত্যু হয়েছিল। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল।
সেই স্মৃতি এখনও টাটকা মৃতদের আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশীদের। বৃহস্পতিবার জোড়পাটকি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল গৃহবধূরা বাড়ির কাজে ব্যস্ত। কৃষিজমিতে কাজ করছেন পুরুষরা। আমতলি স্কুল খোলা। মৃত হামিদুল মিয়াঁর ভাইপো ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে কথা শুরু করতেই তিনি বলেন, সেদিনের কথা কি আর ভোলা যায়? এখনো সেই গুলির শব্দ,আর্তনাদ সব স্মৃতিই টাটকা।
স্থানীয় বাসিন্দা হায়দর আলির কথায়, সেদিন ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলাম। গুলির শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি, রক্তাক্ত দেহগুলি পড়ে আছে। ফারুক হোসেন, আমজাদ আলি মিয়াঁরা বলেন, ভোট এলেই ভয় করে। কী যেন কিছু হয় নাকি। সারা জীবন ওই দিনের ঘটনা মনে থাকবে। স্থানীয় আরএক বাসিন্দা জাভেদ আলি মিয়াঁ বলেন, এখন তো সব ঠিকই আছে। কিন্তু ভোটের দিন কি হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। এবারো তো কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। তাঁরা কি করবেন কে জানে?
গত বিধানসভা নির্বাচনের দিন এই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার জেরে কোচবিহারের পুলিশ সুপার বদলি হয়ে যান। ঘটনার ক’দিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথাভাঙায় এসেছিলেন। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই চার পরিবারের সদস্যই হোমগার্ডের চাকরি পান। আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে বানানো হয় শহিদ বেদি। এখনো প্রতিবছর ওই ঘটনার দিনটিকে স্থানীয়রা পালন করেন। ওই দিনের স্মৃতিকে বুকে চেপে রেখেই জোড়পাটকি গ্রামের সারাবছর কেটে যায়। কিন্তু ভোট এলেই সেদিনের ঘটনা যেন ধীরে ধীরে আতঙ্কের রূপ নেয়। আবারো গুলি চালানোর মতো কোনো ঘটনা আমতলি স্কুলে ঘটে যাবে না তো? এই উদ্বেগ কুঁড়ে কুঁড়ে খায় গ্রামবাসীদের!