


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট, বোলপুর: বুধবার সিউড়ি জেলা আদালতে বোমাতঙ্কের হুমকি মেল এসেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলার দুই প্রধান ডাকঘর-রামপুরহাট ও বোলপুরের শ্রীনিকেতনে বিস্ফোরণের হুমকিতে হুলুস্থুল পড়ে গেল। বিশেষ করে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে এই ছক কষা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। পরপর দু’দিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ও বিচার বিভাগীয় চত্বরে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা বাড়তেই রামপুরহাট প্রধান ডাকঘরে প্রতিদিনের মতো ভিড় জমিয়েছিলেন গ্রাহকরা। কাজ চলছিল পুরোদমে। বেলা ১১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। ডাকঘরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার মহম্মদ আশাদুজ্জামান জানান, সিউড়ি থেকে পোস্টাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ই-মেল মারফত জানান, একটি বিশেষ স্কোয়াড বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা নিয়েছে। যে সব ডাকঘরে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস থেকেও দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত অফিস খালি রাখার নির্দেশ আসে। মুহূর্তের মধ্যে খবর চাউর হতেই কর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে সকলে অফিসের বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর যায় পুলিশে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামপুরহাট থানার পুলিশ এবং পরে অ্যান্টি-স্যাবোটেজ টিম। নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত অফিস খালি করা হয়। তারপর শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। বস্তা থেকে শুরু করে অফিসের প্রতিটি কোণে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো বিস্ফোরক মেলেনি। প্রায় একই সময়ে আতঙ্কের মেঘ ঘনায় শান্তিনিকেতন সংলগ্ন বোলপুরের শ্রীনিকেতন ডাকঘরেও। সেখানেও একই কায়দায় ইমেল আসে। বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পাওয়া শান্তিনিকেতনের গা ঘেঁষা এই ডাকঘরটিতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র রয়েছে। ডাকঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রাণতোষ সরকার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। হুমকির খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত গ্রাহক ও কর্মীদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ডাকঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হঠাৎ এমন ঘটনার জেরে কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হুমকির খবর ছড়ালেও দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ বা বম্ব স্কোয়াডকে দেখা যায়নি। এতে উদ্বেগ আরও বাড়ে। প্রায় দু’ঘণ্টা কর্মী ও গ্রাহকরা বাইরে অপেক্ষা করেন। ইলামবাজার থেকে পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করতে আসা আজহারুল ইসলামের মতো বহু মানুষ দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় কাটান।
উল্লেখ্য, বীরভূমে এই আতঙ্কের সূত্রপাত হয়েছিল বুধবার সকালে। জেলা জজের কাছে একটি হুমকি ইমেল আসায় সিউড়ি জেলা আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুপুর ১২টার মধ্যে আদালত চত্বর খালি করার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী পকসো আদালত, সিজিএম আদালত সহ সর্বত্র তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালায়। প্রায় দু’ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলায় বিচার বিভাগীয় এবং সরকারি দপ্তরগুলিতে আতঙ্ক তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে এই ভুয়ো ইমেল বা ‘হোক্স কল’ পাঠানো হচ্ছে। এর নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা আন্তর্জাতিক চক্রের হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল। তবে পরপর দু’দিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিতে এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কার দানা বেঁধেছে।