


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও রাখির চাহিদা তুঙ্গে। সেই কথা মাথায় রেখেই উল-সুতো-কাপড়ের ব্যবহারে রাখি তৈরি করে তাক লাগিয়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাঁদের তৈরি রাখি দেদার বিক্রিও হচ্ছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী, গড়বেতা-৩ ব্লক সহ বিভিন্ন এলাকার মহিলারা রাখি তৈরি করেছেন। সেই রাখি স্থানীয় দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। হাতে তৈরি রাখির বিক্রি বেশি হচ্ছে। একইসঙ্গে রাখির দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বহু মানুষ কিনছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জানাচ্ছেন, এ বছর রাখির চাহিদা বেশি। বহু মানুষ রাখি কিনছেন। মার্কেটিং ভালো হলে, বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়ত।
অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক মিশন ডিরেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা শাসক ( কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা ঋণ পেয়ে খুবই উপকার পাচ্ছেন। গোটা প্রক্রিয়াটা খুবই দ্রুত গতিতে করা হচ্ছে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের মধ্যে ভালো স্থানে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। তবে এ বছর রাখি তৈরি করে মহিলারা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের তৈরি রাখির ভালোই বিক্রি হচ্ছে। মহিলাদের স্বনির্ভর করার বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো জেলার মহিলাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগে। রাজ্য সরকার চাইছে এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জেলার হস্তশিল্পেরও বিকাশ ঘটাতে। গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বধূরাও স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরফলে কর্মসংস্থান অনেকটাই বেড়েছে। শুধু মেদিনীপুর জেলায় ৭০ হাজারের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলার কথায়, গড়বেতা-৩ ব্লকের এক গোষ্ঠীর মহিলারা প্রায় ৩ হাজার রাখি তৈরি করেছেন। সেই রাখি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে। রাখির পাইকারি দাম ৭ টাকা প্রতি পিস রাখা হয়েছে। যা বাজারে ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে ১৫ টাকা দামেরও রাখি রয়েছে।গড়বেতা-৩ ব্লকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজের তদারকি করেন দেবারতি মেইকাপ গুহ। তিনি বলেন, মহিলারা যত্ন সহকারে রাখি তৈরি করেছেন। আরও আগে থেকে রাখি তৈরি করলে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়ত। সকলের সহযোগিতা পেয়েছি বলেই সম্ভব হল। রাখি তৈরি করে সকলকে তাক লাগিয়েছেন সুতপা জানা। তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হতো না। আরও উন্নতমানের মার্কেটিং হলে, বিক্রি আরও বাড়ত।-নিজস্ব চিত্র