


সংবাদদাতা, কাঁথি: ‘বহিরাগত’ বনাম ভূমিপুত্র প্রার্থীর লড়াই। বহিরাগত বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে পটাশপুর বিধানসভা এলাকায় জেতা আসন ধরে রাখার লক্ষ্যে রাতদিন এক করে দৌড়ে চলেছেন তৃণমূল প্রার্থী পীষূষকান্তি পণ্ডা। পটাশপুরের বিদায়ী বিধায়ক উত্তম বারিককে এবার চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দল। সেই আসনে প্রার্থী হয়েছেন দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা পটাশপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পীযূষবাবু। জয়ের ব্যাটন ধরে রাখতে প্রচারে কোনো খামতিই রাখছেন না তিনি। রবিবার পীযূষবাবু পটাশপুরের পঁচেট পঞ্চায়েতের পঁচেট, নিমজা, কৈনাড়া সহ কয়েকটি বুথে ছোট ছোট সভায় যোগ দিলেন। কোথাও চলল বাড়ি বাড়ি প্রচারের মধ্য দিয়ে নিবিড় জনসংযোগ। নিমজা ও কৈনাড়ায় জনগণের উদ্দেশে বললেন, বিজেপি বরাবরের মতো আপনাদের ভুল বোঝাবে। বলবে, এক নম্বর বোতাম টিপতে। কিন্তু, আপনারা দু’নম্বর বোতাম টিপে দিদির হাত শক্ত করবেন। প্রতিটি জায়গায় প্রার্থী বললেন, তৃণমূলকে জয়ী করলে জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা এবং উন্নয়নমূলক কাজের সুফল পাবেন। বিজেপি জিতলে কিছুই পাবেন না। তাই আপনারাই তুল্যমূল্য বিচার করবেন। আমাকে একটা সুযোগ দিন। পাঁচটা বছর আপনাদের সেবক হয়েই থাকব।
বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতির বাড়ি রামনগর বিধানসভা এলাকাতেই। গত তিনটি নির্বাচনে বহিরাগত প্রার্থী দিলেও এবার তৃণমূল ভূমিপুত্র পীযূষবাবুকে প্রার্থী করেছে। ভূমিপুত্র সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরিও। তিনজনই প্রচার-যুদ্ধে পরস্পরকে টেক্কা দিচ্ছেন। পটাশপুর-১ ব্লকের ৯টি ও পটাশপুর-২ ব্লকের ৫টি এই ১৪টি পঞ্চায়েত নিয়ে পটাশপুর বিধানসভা এলাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র চিস্তিপুর-২ পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে। পটাশপুর বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। একুশের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী অম্বুজাক্ষ মহান্তিকে ৯৯৯৪টি ভোটে হেরেছিল। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে জেলার ১৬টি বিধানসভার মধ্যে পটাশপুরেই তৃণমূল বিজেপির থেকে এগিয়ে রয়েছে।
তবে পটাশপুরে অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কেলেঘাই নদীর সংস্কার সহ বাঁধের কাজ হলেও ভাঙন সমস্যা রয়ে গিয়েছে। নতুনপুকুর কিষান মান্ডির বেহাল দশা। পটাশপুর, প্রতাপদিঘি ও গোনাড়া হাসপাতালের পরিকাঠামো বেহাল। পটাশপুরের অনেকাংশ জুড়ে থাকা এগরা-বাজকুল সড়ক সম্প্রসারণ না হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। খালগুলি সংস্কারের অভাবে বর্ষায় নিকাশি সমস্যা প্রকট হয়। পটাশপুরে ক্ষুদিরাম ক্রীড়াঙ্গনের বেহাল দশা। এলাকায় খেলাধুলার চর্চার জন্য কোনো স্টেডিয়াম নেই। প্রচারে যাওয়া প্রতিটি দলের প্রার্থীদের কাছে এলাকাবাসী সমস্যা সমাধানের দাবি তুলে ধরছেন।
বিজেপি প্রার্থী তপনবাবু বলছেন, বহিরাগত বলে কিছু হয় না। রাজ্যের যে কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটে দাঁড়ানো যায়। ১৫ বছরে পটাশপুরের জন্য কিছু হয়নি। কেলেঘাই নদীর ভাঙন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়নি তৃণমূল সরকার। সব বঞ্চনার জবাব এবার মানুষ দেবেন। মানুষের আশীর্বাদে নির্বাচিত হলে পটাশপুরের ভোল বদলে দেব। পীযূষবাবুর প্রচারে উঠে আসছে কেলেঘাই নদী বাঁধের ভাঙন মেরামতের কথা। পটাশপুরের সমস্ত খাল সংস্কারের কথা। পটাশপুরে আরও একটি কলেজ তৈরির কথা। এছাড়াও তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পীযূষবাবু বলেন, মানুষের আশীর্বাদে নির্বাচিত হলে পটাশপুরের মানুষের জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সিপিআই প্রার্থী বলেন, পটাশপুরবাসী এবার একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ তৃণমূল ও বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেবেন। তৃণমূল প্রার্থী পীষূষকান্তি পণ্ডা।-নিজস্ব চিত্র