নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে আসছেন। শুক্রবার বর্ধমানে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ওইদিন সর্বমঙ্গলা মন্দিরেও যাবেন। সেইমতো প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। তাঁকে সীতাভোগ, মিহিদানা দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে আসেননি। সুযোগ পেলে মন্দিরের উন্নয়ন নিয়েও তাঁকে কিছু কথা বলব। তবে শুক্রবার তিনি কখন মন্দিরে আসবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরে যাঁরা থাকবেন তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। সেইমতো তাঁদের আধার কার্ডের জেরক্স কপি নেওয়া হচ্ছে। দুপুরের দিকে তিনি আসবেন। পুলিশ লাইনের মাঠ থেকে তিনি একাধিক প্রকল্পের সূচনা করবেন। চাষিদের সাবমার্সিবলের বিলে ছাড় দেওয়া হবে। দুই বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া এবং হুগলির চাষিরা কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এছাড়া একাধিক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও তিনি আলোচনা করবেন। এক আধিকারিক বলেন, দুপুরের পর মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে আসার কথা রয়েছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে তিনি গাড়িতে আসতে পারেন। তবে আগে তিনি পুলিশ লাইনে যাবেন নাকি সর্বমঙ্গলা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন সেটা চূড়ান্ত হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী আসার খবরে মন্দিরে সাজসাজ রব শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। আশপাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রী কোনওকিছু ঘোষণা করেন কিনা সেদিকেও অনেকেই তাকিয়ে রয়েছেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণবাবু বলেন, সর্বমঙ্গলা রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে আসেননি। শুভেন্দুবাবুকে বিশেষ উত্তরীয় দিয়ে বরণ করা হবে। তাঁর জন্য ভোগেরও ব্যবস্থা থাকবে।
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম জেলায় আসছেন। পূর্ব বর্ধমান কৃষিনির্ভর জেলা। কৃষকদের জন্য তিনি উপহার নিয়ে আসছেন। শুক্রবার আশেপাশে চারটি জেলার কৃষকরা উপস্থিত থাকবেন। বিদ্যুৎ বিলে সাবসিডি পেলে চাষিরা উপকৃত হবেন। চাষিদের জন্য সরকার একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছে। ধানের সাহায়ক মূল্য বাড়ানো হয়েছে। আলু চাষিদের জন্যও সরকার ভাবনাচিন্তা করছে। আমাদের সরকার কৃষকদরদী। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অল্প সংখ্যক লোকজন উপস্থিত থাকবেন। পুলিশ লাইনে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিধায়করাও থাকবেন।