‘আমাকেও মমতার পাশে ঘেঁষতে দিত না’  প্রাক্তনীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ অভিষেকের
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার বিকেল। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন। সেখানেই প্রকাশিত হয় মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র জাগো বাংলার উৎসব সংখ্যা। প্রতি বছরই মহালয়ার দিন এই উৎসব সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে জায়গাটা পালটেছে। গত বছর তৃণমূল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই উৎসব সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠান হয়েছিল কলকাতার নজরুল মঞ্চে, বৃহৎ পরিসরে। কিন্তু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোনে অনুষ্ঠানটি হয়েছে। নেতাদের উপস্থিতিও ছিল অতি কম। ছিলেন বর্ষীয়ান সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও আলিফা আহমেদ প্রমুখ। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে খোঁচা দেন মমতা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন মমতার পাশে নেতাদের ‘ঘুরঘুর’ করার সেই ছবিটা তুলে ধরেছেন অভিষেক। বললেন, দলের অনুষ্ঠানে মঞ্চ আলোকিত করে বসে থাকা নেতারা আজ কোথায়? সেই নেতারা কোথায়? যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব সময় পাশে থাকতেন। সেই নেতারা কোথায়? যাঁরা মমতার পাশে কাউকে ঘেঁষতে দিতেন না। আমাকেও কনুই মারতেন! ওঁরা সব আজ কোথায় গিয়েছেন, সবাই জানে। বিজেপির ভয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি ভয় দেখিয়েও যাঁদের টলাতে পারেনি, মমতার পাশে আছেন, তাঁরাই প্রকৃত সৈনিক।

Advertisement

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময় মমতার ডায়ে- বাঁয়ে সব সময় দেখা যেত ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসকে। আজ ওরা দুজনেই মমতার হাত ছেড়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেছেন। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যে নেতারা মমতা এবং তৃণমূলকে ক্ষতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিষেক। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর চড়িয়েছেন অভিষেক। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যে আন্দোলন ইন্ডিয়া জোট শুরু করেছে তা আগামী দিনে আরও প্রসারিত হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ করেছেন, দেশের মানুষ যখন প্রতিবাদে সরব, তখন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে কেন্দ্রের সরকার এত মরিয়া কেন? কারণ, জ্ঞানেশ কুমার গ্রেপ্তার হলে অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকেও তার ফল ভোগ করতে হবে। তাঁদের অনেককেই জেলে যেতে হতে পারে। সেই কারণেই যে কোনও মূল্যে জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।