Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষা লাটে, স্কুলের মাঠে এখনও মেলা, এনওসি দিয়েছিলেন খোদ প্রধান শিক্ষিকাই!

প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুলমাঠে মেলা চলছেই। সকলেই সবকিছু জানলেও মেলা বন্ধ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউ।

শিক্ষা লাটে, স্কুলের মাঠে এখনও মেলা, এনওসি দিয়েছিলেন খোদ প্রধান শিক্ষিকাই!
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুলমাঠে মেলা চলছেই। সকলেই সবকিছু জানলেও মেলা বন্ধ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউ। কীভাবে, কার মদতে মেলা চলছে তার উত্তর খুঁজতে গিয়েই দেখা যায়, এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। 

Advertisement

চম্পাসারি জুনিয়র বেসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গীতা কর নিজেই স্কুলমাঠে মেলা বসানোর এনওসি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি হাতে পেয়ে প্রধাননগর থানার পুলিস নিয়ম মেনে অনুমোদন দেয়। যদিও প্রধান শিক্ষিকার দাবি, এনওসিতে কোনও দিনক্ষণ বলে দেওয়া না থাকলেও মৌখিকভাবে মেলা পরিচালন কর্তৃপক্ষ গরমের ছুটির মধ্যেই মেলা শেষ করার কথা জানিয়েছিল। যদিও সংবাদপত্রে মেলা নিয়ে লেখালেখি হতেই গত বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত দিয়ে মেলা তুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। 
প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আমাকে জানানো হয়েছিল গ্রীষ্মের ছুটির মধ্যেই মেলা শুরু ও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আয়োজকরা সময়মতো মেলা শুরু করতে পারেনি। তাই অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে আমি প্রধাননগর থানায় গিয়ে মেলা তুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করে এসেছি। 
যদিও শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক অবধ সিংহালের নজরে বিষয়টি নিয়ে আসা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করব। স্কুলমাঠে যে মেলা এখনও চলছে এবং প্রধান শিক্ষিকা এনওসি দিয়েছিলেন সেবিষয়ে জানেনই না শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপ রায়। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষিকা অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে আমার জানা নেই। তবে স্কুল প্রাঙ্গণে মেলা না চালাতে বলার পরেও কীভাবে মেলা এখনও চলছে, তা জানতে ওই এলাকার থানার সঙ্গে যোগাযোগ করব। 
চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জনক সাহা বলেন, মেলা নিয়ে বিতর্ক হলেও তা চলছেই। আমার কাছে এ ব্যাপারে অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রধাননগর থানার এক শীর্ষ অফিসার জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ এনওসি দেওয়ার পরেই সরকারি নিয়ম মেনে পুলিসের তরফে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফের একটি চিঠি এসেছে। সেখানে যাওয়া হবে। 
উল্লেখ্য, চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীডাঙা বাজার এলাকায় একই প্রাঙ্গণে রয়েছে আমিয় পাল চৌধুরী স্মৃতি বিদ্যালয় এবং চম্পাসারি জুনিয়র বেসিক স্কুল। স্কুলের সামনে বিশাল খেলার মাঠ। জুনিয়র বেসিক স্কুলের মাঠে ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে মিলন মেলা। মাঠ খুঁড়ে বসানো হয়েছে নাগরদোলা সহ একাধিক রাইড, ছোট-বড় প্রচুর স্টল। 
অন্যদিকে, গরমের ছুটির পর ২ জুন থেকে প্রাথমিক, হাইস্কুল খুলে গিয়েছে। স্কুলমাঠে মেলা চলায় অনেক অভিভাবকই সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। ফলে লাটে উঠেছে শিক্ষা। মেলা কমিটির ম্যানেজার বাদল দাস বলেন, স্কুল আমাদের এনওসি দিয়েছে। সেই মোতাবেক পুলিসের তরফে অনুমোদন পেয়ে আমরা মেলা চালাচ্ছি।

সম্পর্কিত সংবাদ