একচালা প্রতিমার কোনো বিকল্প হয় না
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

হৈমন্তী নস্কর
একচালায় দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ একই কাঠামোর মধ্যে থাকেন। যা বাঙালির পারিবারিক ঐতিহ্য ও মাতৃমূর্তির সামগ্রিক রূপকে তুলে ধরে। এর সাজসজ্জায় সাবেকিয়ানা, শাস্ত্রীয় সৌন্দর্য এবং বাঙালির সংস্কৃতির ছাপ রয়েছে। আধুনিক থিমের প্রতিমায় একচালার একাত্মতার অনুভূতি প্রকাশ করা কঠিন।             
গৃহবধূ

সুলগ্না চট্টোপাধ্যায়
একচালা প্রতিমা শুধু কাঠামো নয়, এটি আমাদের সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। একচালার নীচে যখন মা দুর্গা তাঁর সন্তানদের নিয়ে অধিষ্ঠিত হন, তখন তা প্রমাণ করে যে শত ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই এক সুতোয় বাঁধা। থিমের প্রতিমা হয়তো সাময়িক চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। কিন্তু একচালার আন্তরিকতা ছুঁতে পারে না।
ছাত্রী

নন্দিনী দ্বিবেদী 
একচালা প্রতিমাই বঙ্গ সংস্কৃতির খাঁটি ঐতিহ্য ও সনাতন রূপকে বহন করে। দেবী দুর্গার সঙ্গে তাঁর চার সন্তান— লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ যখন একই চালায় অবস্থান করেন, তখন তা কেবল এক শৈল্পিক সৌন্দর্য নয়, বরং একতার প্রতীক হয়ে ওঠে। থিম পুজোয় বৈচিত্র থাকলেও একচালা প্রতিমায় যে একাত্মতার অনুভূতি থাকে, তা অন্য কোনো প্রতিমায় পাওয়া সম্ভব নয়। 
কলেজ ছাত্রী 

বিপক্ষে

অদৃতা সাহা
একচালা প্রতিমা বহু যুগ ধরে আমাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের পছন্দ অপছন্দেরও বহুলাংশে পরিবর্তন ঘটেছে। তাই মানুষ এখন একচালা প্রতিমার পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজাইন ও থিমের প্রতিমা দেখতেও পছন্দ করেন। 
কলেজ ছাত্রী

 সুপ্রিয় হালদার
দুর্গাপুজোর মূল উদ্দেশ্য দেবীর আরাধনা। কোনো নির্দিষ্ট শিল্পরীতিকে চিরস্থায়ী করা নয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি, শিল্পভাবনা ও পরিবেশের চাহিদা বদলেছে। তাই একচালার পাশাপাশি পৃথক চালার প্রতিমাও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। ঐতিহ্যকে সম্মান করা উচিত। কিন্তু তা পরিবর্তনের পথে বাধা তৈরি করা উচিত নয়। 
শিক্ষক

তুষার বন্দ্যোপাধ্যায়
একচালার প্রতিমা, ডাকের সাজ, কাগজের শিকলি আর হ্যাজাকের আলোর সাবেকিয়ানা আজ ইতিহাস। স্রোতের বিপরীতে যাওয়া সহজ নয়। সময় শিখিয়েছে যখন যেমন তখন তেমন। আলোর ফোয়ারা, প্যান্ডেলের সৌন্দর্যও কিন্তু শ্রমিক আর শিল্পী কারিগরের শ্রম, বোধ ও আবেগের ফসল। বাস্তবকে গ্রহণ করাই আধুনিকতা।
অবসরপ্রাপ্ত