Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সারে ভর্তুকি নেই, ফসলের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধিতে নীরব নির্মলা, ক্ষুব্ধ চাষিরা

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পাখির চোখ রাঢ়বঙ্গ। এই এলাকা দখলের জন্য তারা বিস্তর পরিকল্পনা করেছে।

সারে ভর্তুকি নেই,  ফসলের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধিতে নীরব নির্মলা, ক্ষুব্ধ চাষিরা
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পাখির চোখ রাঢ়বঙ্গ। এই এলাকা দখলের জন্য তারা বিস্তর পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু রাঢ়বঙ্গের মন জয়ের জন্য যা করার দরকার ছিল, সেটা কেন্দ্রীয় সরকার করতে পারল না। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, এই জোনে সবথেকে বেশি ধান ও আলু চাষ হয়। কৃষির উপর নির্ভরশীল এই এলাকা। সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখানকার চাষিরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসছেন। ফসলের সহায়ক মূল্য নিয়েও খুশি নন চাষিরা। তাঁদের ভাবনা ছিল, নির্বাচনের আগে মোদি সরকার হয়তো চাষিদের জন্য বড়ো কিছু ঘোষণা করবে। বিশেষ করে সারের ভর্তুকি বাড়ানো কিংবা ফসলের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির কথা অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা যাবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সেসব কিছুই হল না। তাই ভোটের প্রাথমিক পর্যায়ে রাঢ়বঙ্গের মন থেকে বিজেপি কিছুটা ছিটকে গেল বলেই অনেকে মনে করছেন।

Advertisement

খণ্ডঘোষের চাষি সুকুমার বিট বলেন, সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখতেই পাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের জাঁতাকলের জন্য চাষিরা সারের সঙ্গে অণুখাদ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাতে খরচ আরও বাড়ছে। সরকারের উচিত ছিল সারের দাম কমানোর কথা ঘোষণা করা। আসলে কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের কথা ভাবেই না। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের কথা ভাবলে অন্য জিনিসের দাম না কমিয়ে সারের মূল্য কমাত। বাংলার চাষিদের সঙ্গে ওরা বহুদিন ধরেই বঞ্চনা করছে। চাষিদের বড়ো অংশ ১০০দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। সেটাও ওরা বন্ধ করে রেখেছে। এসব কিছুর জবাব ইভিএমে দেওয়ার জন্য চাষিরা মুখিয়ে রয়েছেন। চাষি স্বপন মণ্ডল বলেন, কৃষি নিয়ে ভাল কিছু ঘোষণা হবে ভেবে টিভি খুলে বসেছিলাম। কিন্তু চাষিদের জন্য তেমন কিছু শুনতে পেলাম না। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার কথা চিন্তা করলে কৃষির জন্য বড়ো কিছু ঘোষণা করত। ওরা চাষিদের পাশে নেই। তাহলে বাংলার মানুষই বা ওদের পাশে থাকবে কেন?

আউশগ্রাম-১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শান্তাপ্রসাদ রায়চৌধুরী বলেন, বিজেপি নেতারা এরপর ভোট চাইলে চাষিরা ওঁদের কাছে জবাব চাইবেন। চাষিদের জন্য ওঁরা কিছুই করেননি। ভোট চাওয়ার অধিকার ওঁদের নেই। সার কিনতেই চাষিদের মোটা টাকা চলে যাচ্ছে। বিজেপি নিয়ম করে প্রতি বছরই সারের দাম বাড়িয়ে চলছে। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ সার রাজ্যে পাঠায় না। তার ফলে ব্যবসায়ীদের একাংশ সারের কালোবাজারি করে ফায়দা তোলে। বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, পিএম কিষান নিয়ে বাজেটে ঘোষণা রয়েছে। এছাড়া, চাষিদের সুবিধা হবে এমন আরও অনেক প্রকল্প কেন্দ্র নিয়েছে। না বুঝেই তৃণমূল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ