নয়াদিল্লি: ১৯৭৫ সাল। জরুরি অবস্থা জারি। কাকতালীয়ভাবে ওই বছরই মুক্তি পেয়েছিল বলিউডের এভারগ্রিন ক্লাসিক— শোলে। সেই ছবিতেই ‘গব্বর সিং’-এর সেই অবিস্মরণীয় সংলাপ, ‘জো ডর গয়া, সমঝো মর গয়া’। শনিবার দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন ধরপাকড়ের দিনে শোলের সেই বিখ্যাত সংলাপেরই যেন প্রতিধ্বনি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কণ্ঠে। সংসদ ভবন চত্বরে দাঁড়িয়ে মোদি সরকারকে তুলোধোনা করলেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর তোপ, ওরা (সরকার) ভয় পেয়েছে। আর এরপরই খাড়্গের ঠেস, ‘অউর জো আদমি ডরতা হ্যায়, উয়ো আজ নেহি তো কাল মরতা হ্যায়।’ পরে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এই সরকার গণতন্ত্রের ‘জননী’কে ‘নির্বাক’ গণতন্ত্রে পরিণত করেছে। বিজেপি-আরএসএসের কাপুরুষতা আজ পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ছাত্র, যুব, আইনজীবী, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, কৃষকনেতা, ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর— যাঁরাই সরকারকে প্রশ্ন করছেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে। প্রতিবাদীদের পুলিশি ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর তোপ, ‘ভারতে আর গণতন্ত্র নেই। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী শাসন চলছে।’
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এদিনের কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছেন সোনাম ওয়াংচুক। লাদাখ থেকেই এই পরিবেশকর্মীর হুঁশিয়ারি, আটক তরুণ-তরুণীদের রবিবারের মধ্যে পুলিশ মুক্তি না দিলে ফের অনশনে বসার কথা ভাবতে হবে তাঁকে। ককরোচদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও। দক্ষিণ ভারতের এই নেতার তোপ, বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি অবস্থার ভয়ংকর স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। ভিন্নমত পোষণ করা অপরাধ নয়। বিরুদ্ধমতের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে বাঁচানো যায় না। আর কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর খোঁচা দিয়েছেন, অঘোষিত ‘ইমার-জেনজি’। যুব সমাজের প্রতি এমন আচরণ কাঙ্ক্ষিত নয়। ঘটনাচক্রে, জুলাই মাসে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। তাঁর টানা অনশন দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। লাদাখের এই পরিবেশকর্মী বর্তমানে দিল্লিতে নেই। তবে, লাদাখ থেকেই ককরোচদের জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী নয়া আন্দোলনের প্রতি সমর্থন বার্তা দিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনাম লিখেছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যে কোনো মূল্যে আন্দোলনকে অহিংস রাখতে হবে। এবারের আন্দোলনে তিনি কেন অনুপস্থিত, তার কারণও জানিয়েছেন সোনাম। তিনি লিখেছেন, আসন্ন শীতের মরশুমে লাদাখের জল সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত। সেজন্য কৃত্রিম হিমবাহ তৈরির কাজ চলছে। একইসঙ্গে জারি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গবেষণা।



