নয়াদিল্লি: কারচুপির ‘এপিসেন্টার’ খোদ বিজেপি সদর দপ্তর! নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’-এর এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তার খামতির ফাঁক গলে ভোটার তালিকায় ইচ্ছামতো রদবদল করা যায়। আর সেটা করা হয়েছে বিজেপির হেডকোয়ার্টারে বসেই। বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় সংবাদপত্র ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টের উল্লেখ করে এমনই অভিযোগ তুলল কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি, বিজেপির সদর দপ্তর থেকেই নির্বাচন কমিশনের সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, নির্বাচন কমিশনের এই অনলাইন পোর্টাল ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি আরও এক সর্বভারতীয় দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনেও ‘ইসিআইনেট’-এর কাজ নিয়ে দেশের দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়। তাঁরা জানিয়েছিলেন, আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়া দায়িত্ব স্থানীয় স্তরের অফিসার ইআরও-দের হাতে থাকার কথা। কিন্তু সেই অধিকার ‘খর্ব’ করে ‘ইসিআইনেট’-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা কেন্দ্রীয় স্তরে ‘কুক্ষিগত’ করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার মধ্যেই এবার ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর রিপোর্টে নতুন বিতর্ক তৈরি হল।
কী বলা হয়েছে সেই রিপোর্টে? সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ অধিকারীর বিস্ফোরক দাবিই সেই প্রতিবেদনের ভিত্তি। এর আগে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের সময় সিবিএসই-র আইটি সিস্টেমে খামতির পর্দাফাঁস করেছিলেন তিনি। এবার তাঁর দাবি, ‘ইসিআইনেট’-এর গলদের সুযোগ নিয়ে নির্বাচনি অধিকারিকদের নাম ও ফোন নম্বর সহ বিস্তারিত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে যে কেউ। অ্যাপ্লিকেশনটি থেকে ইচ্ছামতো তথ্য সংগ্রহ ও তাতে বদল করতে পারে। সার্ভারের ত্রুটির কারণে লগ-ইন বা ক্যাপচা সিকিউরিটি টেস্ট ছাড়াই এসব সম্ভব। ভোটার সার্ভিসেস ওয়েবসাইট এবং ইসিআইনেট অ্যাপ-এর গলদগুলি নিয়ে তিনি চলতি বছর জুলাই মাসেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন। ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলি চিহ্নিত করে ইমেল করেছিলেন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’-কেও। কিন্তু গত তিনমাসে এনিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র হেলদোল ছিল না। অবশেষে গত মঙ্গলবার ‘সার্ট-ইন’ ইমেল করে নিসর্গকে জানায়, ‘একটি গলদ মেরামত করা গিয়েছে। অন্যগুলি নিয়ে কাজ চলছে।’ এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই হুংকার দিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে ‘সাক্ষীগোপাল’ বানিয়ে যাবতীয় কারচুপি করিয়েছেন মোদি-শাহ। তাই প্রধানমন্ত্রী মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ কেউ-ই রেহাই পাবেন না। এদিন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এ প্রকাশিত খবরটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ইসিআইনেট-এর ত্রুটির ফাঁক গলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে দিল্লিতে বিজেপি সদর দপ্তর থেকে। বিজেপি সদর দপ্তর থেকে ইচ্ছামতো নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ চালাতেই যে ইসিআইনেট-এর কেন্দ্রীয়করণ হয়েছিল, তা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। এই তরুণ গবেষকই (নিসর্গ অধিকারী) সিবিএসই-র আইটি সিস্টেমের পর্দাফাঁস করে কয়েক মাস আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর পালা!’
দিল্লির রাজঘাটে কংগ্রেসের অবস্থান বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার পিটিআইয়ের তোলা ছবি।