


সৌম্যজিৎ সাহা, মগরাহাট: ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে এসে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার উস্তিতে মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমের দলীয় প্রার্থী যথাক্রমে শর্মিষ্ঠা পুরকাইত এবং শামিম আহমেদের হয়ে প্রচারে আসেন তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে লোক নেই। তাঁদের তো দেখাই যায় না। পাঁচ-ছজন নিয়ে প্রচার করছেন প্রার্থীরা। এরা আবার তৃণমূলকে হারাবে! লোকজনকে ৫০০-৭০০ টাকা দিচ্ছে ঝান্ডা ধরার জন্য।’ এদিনই ফলতার রোড শো শেষ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেন অভিষেক।
মগরাহাটে বক্তব্য রাখার আগে একবার সভাস্থলের ভিড়ে ঠাসা ছবিটা দেখে নেন অভিষেক। তারপর বলেন, ‘জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে বিজয়োল্লাস চলছে। ৪ মে-র পর আবার মগরাহাটে আসব। তখন দ্বিগুণ লোক নিয়ে সভা হবে।’ উন্নয়নের নিরিখে মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই দুই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ করুন। কাজের গতি পাঁচ গুণ বাড়বে। এটা আমার আশ্বাস। তিন বছরের মধ্যে মগরাহাটের দুই বিধানসভা কেন্দ্রকে ঢেলে সাজা হবে।’
দিনকয়েক আগে ডায়মন্ডহারবারের একটি লজে মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ডহারবারের বিজেপি প্রার্থী কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল। সেই বৈঠকের একটি সিসিটিভি ফুটেজও দেখানো হয়। এদিন মগরাহাট এবং ফলতার সভা থেকে এই প্রসঙ্গ তুলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করেন অভিষেক। বলেন, ‘ডায়মন্ডহারবারে গোপন বৈঠক হয়েছে আর আমি জানব না, এটা কখনো হয় নাকি!’ পরে এনিয়ে সুর চড়িয়ে ওই পুলিশ অবজার্ভার এবং নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যখন এসআইআরে হাজার হাজার নাম বাদ চলে যাচ্ছিল, তখন একমাত্র ফলতায় এই কাজ করতে পারেনি কমিশন। এমনই দাবি অভিষেকের। তাঁর কথায়, ‘গায়ের জোরে নাম বাদ দিতে পারেনি এখানে। এই বিধানসভা একপ্রকার মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে লেজেগোবরে করে দেখিয়ে দিয়েছে ফলতা। জ্ঞানেশ কুমারকেও উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ফলতার মানুষ।’ এই কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে এক লক্ষের বেশি ব্যবধানে এগিয়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে সেই ব্যবধানও ছাপিয়ে যায়, সেই আরজি রেখেছেন অভিষেক। পাশাপাশি, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের দাবি মেনে এখানে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি করার প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যান তিনি।