রাস্তায় ক্যাব নেই, টোটোয় উঠলেই ১০০! ইন্টারনেট বন্ধে বিকল ইউপিআই
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাই! ককরোচ জনতা পার্টির এই দাবিতে সুর মিলিয়েছে গোটা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। শনিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের ডাক ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই পারলেন না প্রতিবাদীরা। শনিবার সিজেপির কর্মসূচিকে ঘিরে সংসদ মার্গ, কনট প্লেস-সহ দিল্লির একাধিক এলাকায় ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। বন্ধ রাখা হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। কার্যত স্তব্ধ ছিল ক্যাব পরিষেবাও। পুলিশের এই বিধিনিষেধে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরাও। 

Advertisement

শনিবার দিনভর যন্তর মন্তর চত্বরে ছিল লকডাউনের শূন্যতা। সকাল ৯টার মধ্যেই আশপাশের অধিকাংশ রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। শুধু সংসদ মার্গ থানার আশপাশেই জড়ো হয়েছিলেন ২,০০০ থেকে ৩,০০০ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) কর্মী। এলাকায় গাড়ি চলাচল স্তব্ধ ছিল। চালু থাকা নিকটবর্তী স্টেশনগুলির মধ্যে অন্যতম প্যাটেল নগর থেকে যন্তর মন্তর হেঁটে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগে। অনেকেই ভেবেছিলেন ক্যাব কিংবা অটো করে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু ক্যাব হাজার চেষ্টা করেও মেলেনি। আর সুযোগ বুঝে লাগামছাড়া ভাড়া চাইতে শুরু করেন অটো-টোটো চালকরা। দাবি, মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের পথ যেতে ই-রিকশচালকেরা মাথাপিছু ১০০ টাকা ভাড়া চাইছিলেন। অন্যদিকে যমুনা ব্যাংক মেট্রো স্টেশন থেকেও যন্তর মন্তর যেতে প্রায় দু’ঘণ্টা হাঁটতে হয়। সেই পথেও যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন পেশায় টেলিকলার ১৯ বছরের জয় কুমার। তাঁর দাবি, মেট্রো করে গন্তব্যে পৌঁছলেও দরজা খোলেনি। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানার চিল্লা এলাকাতেও কড়া নজরদারি চালানো হয়। এমনকি বেসরকারি বাস থামিয়েও যাত্রীরা কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, রাস্তায় ক্যাব দেখলেই থামিয়েছে পুলিশ। তবে সমস্যা সবথেকে বেশি পোহাতে হয়েছে আম জনতাকে। কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কাজ করছিল না ইউপিআই। বিষয়টা আরও জটিল হয় ট্রেন বাতিলের জেরে। রেল সূত্রে খবর, শনিবার ১৭০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল দিল্লিতে। এদিন মধ্যরাতের পর নিউদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে দূরপাল্লা ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবাও স্বাভাবিক হয়েছে। পাশাপাশি, শনিবার দিনভর বন্ধ থাকার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ডিএমআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেট্রো স্টেশনের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিষেবাও স্বাভাবিক। বিক্ষোভকারীদের জন্য এদিন দিনভর বন্ধ ছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। বহু ক্ষেত্রেই একাধিকবারের চেষ্টায় ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত দশটা নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে।