মেচেদা, তমলুক, নন্দকুমারে থিমের শিল্পমেলা, মহালয়ায় পুজোর কাউন্টডাউন শুরু
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: শিল্পকলা, সামাজিক বার্তা ও নিজস্ব ভাবনার মধ্য দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা, তমলুক ও নন্দকুমারের বিভিন্ন বিগ বাজেটের পুজোয় থিম সেজে উঠছে। পরিবেশ রক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ জীবনচিত্র, ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনী নিখুঁতভাবে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, কল্পনা ও মেধার এক অপূর্ব নিদর্শন ঘটছে ঝাঁ চকচকে পুজো মণ্ডপে। এই দৃশ্য গোটা এলাকাকে এক বিরাট শিল্পমেলায় পরিণত করছে।

Advertisement

মেচেদার গুলুড়িয়া অলস্টার সর্বজনীন পুজো কমিটির এবারের থিম ‘অর্ধজীবন’। গড় আয়ুর অর্ধেক বয়স পার করার পর মানুষ অন্যের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সাহায্যপ্রার্থী হয়ে পড়ছেন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই বিষয়টিকে থিমে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, মণ্ডপের ভিতর রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবার সুন্দরভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রানিমা, গোপাল ভাঁড় সহ ১১-১২রকমের চরিত্র স্থান পেয়েছে বলে পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুকুমার মাইতি জানিয়েছেন।
এছাড়া, মেচেদার সৃষ্টি ক্লাবের থিম দিল্লির লালকেল্লা। অবিকল লালকেল্লাকে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। মেচেদা টাউন ক্লাবের পুজোয় রামচন্দ্রের অকালবোধন চাক্ষুষ করার সুযোগ মিলবে। অকালবোধনের গল্প বাঙালিরা শিশুকাল থেকে শুনে আসছে। যুদ্ধে একে একে লঙ্কার বড় বড় বীরেরা মারা পড়ছেন। একা কুম্ভের মতো লঙ্কাপুরী রক্ষা করছেন রাবণ। তাঁকে বধ করার জন্য শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধন থিমকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করছেন শিল্পীরা। মেচেদা আরাধ্যা ক্লাবের থিম ‘ত্রিনয়ন’।
তমলুকের নিমতৌড়ির ভারত সংঘ ক্লাবের থিম রামমন্দির। অযোধ্যার রামমন্দিরের আদলে উদ্যোক্তারা থিম তৈরি করছেন। সন্ধ্যার পর চোখ ধাঁধানো আলোর রোশনাই মণ্ডপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজোর উদ্বোধন করবেন। নিমতৌড়ি গ্রামবাসী, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ী কমিটির পুজোর থিম তিরুপতি মন্দির। এছাড়া, কুলবেড়িয়া ঐক্যতান ক্লাবের পুজোর থিম ‘বিবর্তন’। মানব সভ্যতার বিবর্তন একটি দীর্ঘ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে মানুষ তার বুদ্ধি, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে আজকে মনবসভ্যতা গড়ে তুলেছে। এই কাহিনীকে মণ্ডপে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তমলুক শহরের শালগেছিয়ায় সেবক সংঘের পুজোর থিম কুরুক্ষেত্র। ১৮দিনের যুদ্ধে ৪০লক্ষ সৈন্য নিহত হয়েছিল। কৌরব বংশ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই দৃশ্য মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। শালগেছিয়ায় আরও একটি বিগ বাজেটের পুজো আয়োজন করে নিউ ব্রাইটস্টার। তাদের থিম রামমন্দির। মাঠের মধ্যে বিরাট জায়গাজুড়ে রামমন্দিরের আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোর জাদুতে মণ্ডপের আকর্ষণ বাড়বে কয়েকগুণ।
তমলুকের মানিকতলায় পুরনো এসপি অফিস লাগোয়া সম্প্রীতি বন্ধন ক্লাবের পুজোয় এবার ৩০ফুটের দুর্গা প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। রাজ্য সড়কের ধারে সুউচ্চ প্রতিমা দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শহরের হসপিটাল মোড় সংলগ্ন ওয়ান হার্টেড ক্লাবের থিম কামাখ্যা মন্দির। শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডে দেপাড়া এলাকায় নটিবয় ক্লাবের পুজোর থিম স্বপ্নপুরী।
তমলুক শহরে শঙ্করআড়া বাজার সংলগ্ন ইয়ুথ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোর থিম হরধুন ভঙ্গ। মিথিলার রাজা জনকের আয়োজিত স্বয়ংবর সভায় ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শিবের মহাশক্তিশালী পিনাক নামক হরধনু ভাঙার ঘটনাকে থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সঙ্গে থাকছে চন্দননগরের আলোর জাদু। শহরের ১২নম্বর ওয়ার্ডে পার্বতীপুরে অলস্টার ক্লাবের পুজোয় পঁচেটগড়ের রাজবাড়ির আদলে মন্দির তৈরি হচ্ছে।
নন্দকুমারের এনএসসিসি ক্লাবের পুজোর থিম মহারানির দরবার। কাল্পনিক রাজমহল আদলেই তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। দেবী দুর্গাকে রানিমা হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। নন্দকুমার বাজারে ওরিয়েন্ট ক্লাবের পুজোমণ্ডপ শালপাতা নিয়ে তৈরি হচ্ছে। মণ্ডপ দেখতে অনেকটা জঙ্গলঘেরা একটা মন্দিরের  মতো। তারমধ্যেই থাকবেন দেবী দশভূজা। খঞ্চি মিলনবীথি ক্লাবের থিম ‘অঙ্গীকার।’ কন্যাভ্রুণ হত্যার বিরুদ্ধে বার্তা দিতেই থিমের মাধ্যমে বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। হাঁসগেড়িয়া রামকৃষ্ণ ক্লাবের থিম-আলোকমঞ্জুরী। জাল, ফোম, ফিতে সহ নানা সামগ্রী নিয়ে এই থিম ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। এখানকার সৃষ্টি ক্লাবের থিমের মধ্যে গ্রামীণ পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। থিমের নাম-মা আসছেন পল্লির বেশে। মণ্ডপজুড়ে থাকবে গ্রামীণ পরিবেশ।  নিজস্ব চিত্র