রঘুনাথপুর জুড়ে থিমের ভিড়, আছেন সত্যজিৎ-উত্তম
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: উত্তম কুমারের শতবর্ষ থেকে সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতি, পাষাণ ভূমি থেকে বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দির রঘুনাথপুর মহকুমা জুড়ে থিমের ছোঁয়া দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়। দুর্গাপুজোর পঞ্চমী থেকে মন্ডপগুলিতে ভিড় জমেছে। সপ্তমীর ভিড় সামাল দিতে পুলিশ থেকে শুরু করে কমিটিগুলির স্বেচ্ছাসেবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। সকাল থেকেই পুজো দেখতে মণ্ডপ গুলিতে ভিড় জমছে। নিতুড়িয়া ও রেল শহর আদ্রার থিমের পুজোগুলির পাশাপাশি কাশীপুরের রাজবাড়ি দর্শনার্থীদের কাছে এখন অন্যতম ঘোরার জায়গা হিসেবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিতুড়িয়ায় তিনটি বিগ বাজেটের পুজো। ৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে নিতুড়িয়ার দুব্বেশ্বরী কোলিয়ারি সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এখানের থিমে বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দিরকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিমায় রয়েছে সাবেকিয়ানা। অন্যদিকে, ভামুরিয়া বাথানেশ্বর দুর্গাপুজো এবারে থিম পাষানে প্রাণ। সেখানে কারু কার্যে বিভিন্ন ধরনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এবং পারবেলিয়া সার্বজনীন দুর্গোপুজোয় থিম সবুজ মহলের সৃজন। প্রকৃতির সম্পদ খড়, হোগলা পাতা, মহুল প্রভৃতি দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। 
নিতুড়িয়ার পাশাপাশি রেল শহর আদ্রাত একাধিক মন্ডপে থিম রয়েছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ পুজোগুলির মধ্যে আদ্রা অগ্রদূত ক্লাব ৫২ বছর থিম হিসেবে উত্তম কুমারের শতবর্ষকে সামনে রাখা হয়েছে। উত্তম কুমারের বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য দিয়ে মন্ডপ চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবং তাঁর সিনেমার একটি দৃশ্যে রাজপ্রসাদ ছিল। সেই রাজপ্রাসাদ দৃশ্যকে প্যান্ডেলের আদল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আদ্রা সুভাষ নগর সর্বজনীন দুর্গোৎসব ৪০ বছরের পদার্পণ করেছে। এখানে মন্ডপ জুড়ে সত্যজিত রায়ের স্মৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন ছবি ও প্লাকার্ড দিয়ে মন্ডপ সাজানো হয়েছে। এবং বিভিন্ন সিনেমার নায়ক, নায়িকাদের নাম স্লেটে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবং পঞ্চম বর্ষের আদ্রা নারী শক্তির এবারে থিম পশু প্রেম। অবলা জীব আমাদের মাঝে যে কিভাবে আমাদের বিভিন্ন বার্তা দেয় সেই বিষয়গুলি থিমে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। 
 কমিটির সম্পাদিকা শিল্পা বাউরি বলেন, পুজো পরিচালনায় মহিলারা থাকে। প্রতি বছর নানান থিম সাজিয়ে তোলা হয়। এবারে থিম হিসেবে পশু প্রেমের ভাবনাকে তুলে আনা হয়েছে।
শুধু তাই নয় কাশীপুরের রাজবাড়ি এখন দর্শনার্থীদের কাছে মূল আকর্ষণ। সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। শালতোড় ষোলআনা সর্বজনীন দুর্গোপুজো কমিটি আকর্ষণের জন্য ডান্ডিয়া নাচের ব্যবস্থা করেছে।
 পুজো মণ্ডপে ঘুরতে আসা রিম্পা চক্রবর্তী, সোহিনী রায়, শিবনাথ দাস বলেন, পঞ্চমী দিন থেকে মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্রচুর ভিড় হচ্ছে। ছোট বড় মিলে প্রচুর থিমের পুজো হচ্ছে। 
 জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি পুজো মন্ডপে শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে যাতে দর্শনার্থীরা দর্শন করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বড় পুজা মন্ডপগুলিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে।