বঙ্গোপসাগরে আসন্ন নিম্নচাপ থেকে  ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা আপাতত কমই, নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে কয়েকদিনের মধ্যে একটি নিম্নচাপ তৈরি হলেও সেটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর দেয়নি। সেই সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশ থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার পর বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সময় এখনো অনেকটাই বাকি। আপাতত পুজোর সময় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা না-থাকলেও পরের দিকে তা থাকছে। ডিসেম্বরের গোড়ার দিক পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় হতেই পারে। আবহাওয়াবিদরা আরও বলছেন, এল নিনো সক্রিয় থাকলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যায়। তখন আরব সাগরে তুলনামূলকভাবে কম ঘূর্ণিঝড় হয়। এল নিনো দিনে দিনে শক্তি বাড়াচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নভেম্বরে এল নিনো সবচেয়ে তীব্র হবে। 

Advertisement

বর্ষা-পূর্ববর্তী এবং বর্ষা-পরবর্তী কয়েকমাস বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে। সমুদ্র জলের উষ্ণতা বাড়লে নিম্নচাপ শক্তিশালী হয়। বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর সমুদ্র জলের উষ্ণতা বাড়তে থাকে। এইসময় আন্দামান সাগরে কোনো ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হলে সেটি  বঙ্গোপসাগরের উপর এসে শক্তি বাড়িয়ে নেয়। বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে মায়ানমার, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্র ও তামিলনাড়ু উপকূলের কোনো জায়গায় সেটি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অক্টোবর-নভেম্বরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়া থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির একাধিক নজির রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৯ অক্টোবর সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল ওড়িশার জগৎসিংহপুর এলাকায়। ওই বিপর্যয়ে সরকারিভাবে হাজার দশেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘটনা। বাংলাদেশের ভোলা এলাকায় এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু হয়েছিল লক্ষাধিক মানুষের! সাম্প্রতিককালের মধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আছড়ে পড়ে ওড়িশার ভিতরকণিকায়। ওই ঘটনায় তুলনায় কম হলেও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং কিছু প্রাণহানি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেও।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তা তামিলনাড়ু বা লাগোয়া অন্ধ্রপ্রদেশে ধেয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তার আগে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা থাকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও লাগোয়া অন্ধ্র উপকূলের দিকে ছুটে যাওয়ার। ২০২২ ও ২০২৩ সালে, এইসময়ে বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছিল যথাক্রমে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং ও হামুন। গতবছর ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ হানা দিয়েছিল অন্ধ্র উপকূলে। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া দপ্তরও কোনো ঝুঁকি নিচ্ছে না। সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার ব্যাপারে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির সঙ্গে আগাম বৈঠক হয়েছে পুজোর আগেই।