রাজীব বর্মন, দিনহাটা: বৃদ্ধাশ্রম নামটি শুনলেই চোখের সামনে ফুটে ওঠে ক্রন্দনরত মায়ের মুখ, ম্রিয়মান বাবার দুর্বল চাহনি। সারাজীবন শ্রম দিয়ে নিজের সন্তানদের বড়ো করে তুলে শেষ জীবনে সেই সন্তানকে অবলম্বন করে বাঁচার চেষ্টা যেন অন্যায়। সংসারে যেন বৃদ্ধ মা-বাবাই বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
নচিকেতার সেই বিখ্যাত বৃদ্ধাশ্রম গানের কথায়, ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার/ মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার/ নানানরকম জিনিস, আর আসবাব দামি দামি/ সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি/ ছেলের আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম/ আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!
আর সেই ‘বৃদ্ধাশ্রম’কেই পুজোর থিম করেছে কোচবিহার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর সেবা সংঘ সর্বজনীন পুজো কমিটি। এই পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের অধিকাংশই প্রবীণ নাগরিক। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সামাজিক বার্তা দিতে এই থিমকে সামনে রেখে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। এবার এদের পুজোর ৬১ বছর। হীরক জয়ন্তীর পর এবারের পুজোর থিম দর্শনার্থীদের মনে ছাপ ফেলবে বলে আশাবাদী পুজো কমিটির কর্মকর্তারা। বাজেট প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়েই করা হচ্ছে মণ্ডপ। কোচবিহারের নাটাবাড়ির শিল্পী পরিমল রায় তাঁর শৈল্পিক ভাবনায় তাঁর সহযোগী শিল্পীদের নিয়ে নিপুণ হাতে গড়ে তুলছেন প্রতিটি চরিত্র।
গতবছর হীরক জয়ন্তী বর্ষের থিম ছিল ‘গোলক ধাঁধা’। যা দর্শনার্থীদের মনজয় করে নিয়েছিল। এবারে পুজো কমিটিতে রয়েছেন তাপস গুহ রায়, প্রভাসচন্দ্র পাল, বুক্ষু নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, অমিত পাল, সুজিতকুমার ঘোষ, হিমু আইচ, স্বপন পাল, ধনঞ্জয় বর্মন প্রমুখ। তাঁদের কথায়, আমাদের পুজো কমিটির অধিকাংশই সিনিয়র সিটিজেন। একটা বয়সের পর মানুষ নিসঙ্গতা বোধ করে। পরিবার ছেড়ে অনেকের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে। সেই ভাবনা থেকেই এবারের থিম। পুজো কমিটির সম্পাদক রতনকুমার সরকার বলেন, নচিকেতার সেই হৃদয়স্পর্শী বৃদ্ধাশ্রম গানকে অবলম্বনে আমরা মণ্ডপসজ্জা করছি। মণ্ডপে সবটাই থাকছে পরিবেশবান্ধব উপকরণ। পুজো কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ সরকার বলেন, পঞ্চমীতে প্যান্ডেলের উদ্বোধন হবে। মঞ্চস্থ হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। • নিজস্ব চিত্র।