


অপারেশন সিন্দুরের আবহে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর মুখ হয়ে উঠেছেন দুই সাহসী কন্যা। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কম্যান্ডার ব্যোমিকা সিং। ১৯৭১ সালেও এমনই এক সাহসিনী দেশের হয়ে নীরবে কাজ করেছিলেন। দেশের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন নিজের জীবন। সেটা ১৯৬৯ সাল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন জম্মু ও কাশ্মীরের এক ছাত্রী। হঠাৎ বাড়ি থেকে তলব। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার শেষ ইচ্ছা, মেয়েকে দেশসেবার কাজে প্রস্তুত করবেন। ২০ বছরের সেই তরুণীই পরবর্তীতে ‘সেহমত’ নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। সিক্রেট মিশনে যান পাকিস্তানে। সেহমতের বাবা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর হয়ে কাজ করতেন। ব্যবসার কারণে সীমান্তের ওপারে তাঁর অগাধ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ‘র’-কে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার ইচ্ছেপূরণে পড়াশোনা ছেড়ে গুপ্তচর হন সেহমত। তাঁকে পাঠানো হয় পাকিস্তানে। পাক বাহিনীর শীর্ষকর্তারা কী পরিকল্পনা করছেন, সেই তথ্য সংগ্রহই ছিল সেহমতের সিক্রেট মিশন। এজন্য সেহমত বিয়ে করেন পাক সেনাকর্তা ইকবাল সৈয়দকে। ইকবালের বাবা ব্রিগেডিয়ার পারভেজ সৈয়দও ছিলেন পাক সেনার সিনিয়র অফিসার। সেহমতের দায়িত্ব ছিল পাক সেনাকর্তাদের কথা শুনে মর্স কোডের মাধ্যমে জরুরি বার্তা দেশে পাঠানো। অল্প সময়েই আর্মি স্কুলে শিশুদের নাচ শেখানোর কাজ পেয়ে যান। ফলে পাক সেনার গোপন তথ্য সহজেই নাগালে আসতে শুরু করে তাঁর। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ভারতের জয় ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’। বঙ্গোপসাগরে এই যুদ্ধজাহাজটিকে আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানের। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র-সজ্জিত সাবমেরিন পিএনএস গাজিকে। তা জানতে পেরে পিএনএস গাজির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ভারতকে দেন সেহমত। নৌবাহিনী বিশাখাপত্তনম বন্দরের কাছে পাকিস্তানি সাবমেরিনটি ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু সেহমতের কাজকর্মে সন্দেহ তৈরি হয় আব্দুল নামে সৈয়দ পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর। সেহমত তাঁকে ট্রাকের চাকায় পিষে খুন করেন। সত্যি জানতে পেরে যাওয়ায় খুন হতে হয়েছিল পাক সেনাকর্তা স্বামী ইকবালকেও। আর সেহমত অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিরাপদে ভারতে ফিরে আসেন। বাকি জীবন পাঞ্জাবের মালেরকোটলায় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।