Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুধ দিয়ে মণ্ডপ ধুয়ে আনা হয় মাকে, পাত পেড়ে ইলিশেই বিজয়ার আমেজ

ঢাকের বাদ্যি তো আছেই। ইংলিশবাজারের বসাকবাড়িতে সানাইয়ের সুরেই আসেন মা দুর্গা। বেদিতে ওঠার আগে দুধ দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয় মণ্ডপ।

দুধ দিয়ে মণ্ডপ ধুয়ে আনা হয় মাকে, পাত পেড়ে ইলিশেই বিজয়ার আমেজ
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ঢাকের বাদ্যি তো আছেই। ইংলিশবাজারের বসাকবাড়িতে সানাইয়ের সুরেই আসেন মা দুর্গা। বেদিতে ওঠার আগে দুধ দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয় মণ্ডপ। পুজোর ক’দিন দেবীকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হলেও দশমীতে বিসর্জনের পর পাত পেড়ে ইলিশেই জমে ওঠে বিজয়ার আমেজ। গত ন’দশকে এই নিয়মের অন্যথা হয়নি। এবারও রীতি অক্ষুন্ন রেখেই জোরকদমে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। 

Advertisement

ইংলিশবাজারে বসাকবাড়ির পুজো এবার ৮৯ বছরে পা রাখলেও শুরুটা অনেক আগে। প্রথমে পুজো হত বাংলাদেশের নওগাঁতে। সেখানেই বাস ছিল বসাক পরিবারের পূর্বপুরুষদের। পরে জমি বিনিময় করে তারা আসে মালদহ শহরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নওগাঁর কালীতলা থেকে বাড়ির পুজোও চলে আসে নতুন ঠিকানায়। ইংলিশবাজারে বসতি স্থাপনের পর বাড়িতে দুর্গা দালান তৈরি করেন বসাকরা। পুরোহিত ডেকে নির্মাণ করা হয় বেদি। সময়ের সঙ্গে মন্দিরের চেহারা বদলালেও বেদি অপরিবর্তিত। ঠিক যেমনটি বদলায়নি মা দুর্গার গড়ন থেকে সাজপোশাক। একচালার প্রতিমা। প্রতিবারের মতো এবারও বেনারসিতে সেজে উঠছেন বসাকবাড়ির উমা। ঠাকুর দালানেই চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। মহালয়ার ভোরে হবে দেবীর চক্ষুদান। আপাতত তারই অপেক্ষা।
বর্তমানে পারিবারিক পুজোর মূল দেখভালের দায়িত্বে রঞ্জন বসাক (টিঙ্কু) ও তাঁর জেঠতুতো দাদা দিলীপ বসাক। তবে যৌথ পরিবারের প্রত্যেকেই পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে যুক্ত। সারা বছর পরিবারের আর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারলেও দুর্গাপুজোয় সবাই একসঙ্গে মিলিত হন। পুজো ঘিরে বসাকবাড়িতে বসে চাঁদের হাট। 
পরিবারের সদস্য রঞ্জন বসাক বলেন, স্বয়ং মা দুর্গার স্বপ্নাদেশে আমাদের পরিবারে পুজো শুরু। জৌলুস নয়, নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের আরাধনা করাই আমাদের সংকল্প। তাঁর কথায়, মা দুর্গা বেদিতে ওঠার আগে দুধ দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়। বেজে ওঠে সানাই। ঢাকের বাদ্যি থাকলেও সানাইয়ের সুরেই পুজো শুরু হয় আমাদের বাড়িতে। পরিবারে কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। সেখান থেকেই মায়ের জন্য বেনারসি পছন্দ করেছেন বাড়ির মহিলারা। উমার সাজপোশাক কী হবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব তাঁদেরই। আগে বাড়িতে ভিয়েন বসত। তৈরি হত নানারকম মিষ্টি। সেসব নিবেদন করা হত দেবীকে। এখনও যতটা সম্ভব বাড়িতে তৈরি মিষ্টিই ভোগে থাকে। অষ্টমীতে নিরামিষ ভোগের ব্যবস্থা থাকে সবার জন্য। তবে দশমীতে মহানন্দা নদীতে দেবীকে নিরঞ্জনের পর বাড়িতে পাত পেড়ে মাছ-ভাত খাওয়ার রেওয়াজ আজও অটুট। এবারও মাছের মেনুতে থাকবে কাতলা ও ইলিশ। শুধু পরিবারের সদস্যরা নন, অন্তত পাঁচশোজনের খাওয়ার আয়োজন থাকে।  মহাষ্টমীতে অঞ্জলি হলেও দশমীতে পুষ্পাঞ্জলি দেন বসাকবাড়ির প্রত্যেকে। এটাই তাঁদের বাড়ির পুজোর মূল অঞ্জলি। ওইদিন পুজোর পর পরিবারের প্রত্যেকের হাতে অপরাজিত বলয় বেঁধে দেন পুরোহিত। সিঁদুর খেলায় মাতেন মহিলারা। আজও মহানন্দায় মা দুর্গাকে নৌকায় ঘুরিয়ে তারপর সম্পন্ন হয় নিরঞ্জন পর্ব। বসাকবাড়ির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন গোটা এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ