সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: একই রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহের দর্শন এই অনন্য বৈশিষ্ট্যই কৃষ্ণনগরের শক্তিনগরের রথযাত্রাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সেই বহু বছরের ঐতিহ্যকে বুকে নিয়ে এবার ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করল শক্তিনগরের রথযাত্রা। এদিন দুপুর থেকেই রথ প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামবে। রথের রশিতে একবার হাত ছোঁয়ানোর আশায় বহু মানুষ ভিড় জমাবেন। ধর্মীয় আচার, হরিনাম সংকীর্তন, প্রসাদ বিতরণ এবং বিশাল মেলাকে ঘিরে সারাদিন উৎসবের আবহে মেতে উঠবে গোটা শক্তিনগর। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে পূজা ও বিশেষ আচার সম্পন্ন হওয়ার পরেই রথের দড়িতে টান পড়বে। আট থেকে আশি সকলে মিলেই রথের দড়িতে টান দেবেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবানের রথ টানার সৌভাগ্য অর্জন করলে পুণ্যলাভ হয় এবং জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি দূর হয়। রথ চলার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠবে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন এবং ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে। ভক্তদের উচ্ছ্বাস ও ধর্মীয় আবেগে গোটা এলাকা এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হবে।
রথ পরিচালন সমিতির সদস্য জীবন সূত্রধর বলেন, আমাদের রথের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার সঙ্গে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির পুজো হওয়া। রীতি অনুযায়ী সকালে প্রভুকে খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপর সুসজ্জিত রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হলে শুরু হয় রথ টানার অনুষ্ঠান। রথ থেকে নামার পর প্রভুকে দেওয়া হয় শীতল ভোগ। রথের ঘোড়া তিন বছর আগে বদলানো হয়েছে। বর্তমানে নতুন রথের বয়স ২১ বছর। রথে প্রচুর মানুষের জনসমাগম হয়, মাঠে মেলা বসে। সকল ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে।
শক্তিনগরের বাসিন্দা বাবুসোনা পাল বলেন, ছোটবেলা থেকে এই রথযাত্রা দেখে আসছি। অন্য কোথাও একই রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার সঙ্গে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহের দর্শন খুব একটা দেখা যায় না। এটাই শক্তিনগরের রথের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব। প্রতিবছর রথের দড়িতে একবার হাত দেওয়ার অপেক্ষায় থাকি। আমাদের বিশ্বাস, ভগবানের রথ টানলে সংসারের অমঙ্গল দূর হয়। • প্রতীকী চিত্র



