সঞ্জয় সরকার: ২০০৬ সালের ৩০ জুন। বেঞ্চে বসেই বিশ্বকাপ থেকে দলের বিদায় দেখেছিলেন ১৯ বছরের লিও মেসি। জার্মানির কাছে টাই-ব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ আলবিসেলেস্তে ব্রিগেডের। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দু’দশক। পরবর্তী পাঁচটি আসরে একবারের জন্যও মাঠের বাইরে বসতে হয়নি আর্জেন্তাইন মহাতারকাকে। তবে রবিবার মেসিকে ছাড়াই প্রথম একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ লায়োনেল স্কালোনি। মাঠে খেলা চললেও গ্যালারির চোখ আটকে ছিল বেঞ্চের দিকে। মেসিরও যেন মন মানছিল না। ডাগ-আউটে ম্যাচের শুরু থেকেই উসখুস করতে দেখা যায় তাঁকে। কখনও মাটিতে বসে পড়েন, আবার কখনও সতীর্থের চেয়ারের হাতলে হেলান দিয়ে দেখতে থাকেন দলের খেলা। মাঝেমধ্যেই তাঁর নজর চলে যাচ্ছিল কোচ স্কালোনির দিকে। যেন সিগন্যালের অপেক্ষা! অবশেষে ৫৮ মিনিটে নির্দেশ মিলতেই দ্রুত ওয়ার্ম-আপ সেরে মাঠে নামলেন লিও। তৎক্ষণাৎ তাঁর হাতে ক্যাপ্টেন্স আর্ম-ব্যান্ড পরিয়ে দেন ওটামেন্ডি।
মেসি মাঠে ফিরতেই গর্জে ওঠে গ্যালারি। সেই শব্দব্রহ্মই কাঁপিয়ে দেয় জর্ডনকে। ৮০ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফ্রি-কিক থেকে জাল কাঁপিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বাঁ পায়ের জাদুকর। গড়লেন কাপযুদ্ধের আসরে টানা ৭ ম্যাচে গোলের অনন্য নজির। পিছনে ফেললেন জাঁ ফঁতে ও জোয়ারজিনহোকে। শুধু তাই নয়, ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২টি ফ্রি-কিক গোলের মালিক তিনি। অতীতে সেই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন পেলে, রিভেলিনো, তেওফিলো কুবিলাস, বার্নার্ড চেঙ্গিনি ও ডেভিড বেকহ্যাম।
চলতি বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচেই রেকর্ডের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন মেসি। তবে তা নিয়ে তাঁর কোনোরকম হেলদোল নেই। আসলে আর্জেন্তাইন কিংবদন্তির চোখ যে এখন স্রেফ দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে। গ্রুপের গণ্ডি টপকানোর পর ইনস্টাগ্রামে লিওর সংকল্পবদ্ধ মন্তব্য, ‘আরও এক জয়ে গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ হল। এভাবেই একজোট হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’



