বহরমপুরের মন্দিরের পুজোগুলি রীতি, আচার মেনেই হয়ে চলেছে
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে প্রচুর মন্দিরে দুর্গাপুজো হয়। সেইসব পুজোয় থিমের আঁচ পড়েনি। তবে আলোর ছটা মন্দির এবং মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পড়েছে। এখানে শুদ্ধাচারে, বিধি নিষেধ এবং পঞ্জিকার সঠিক নির্ঘন্ট মেনেই পুজো হয়। কোথাও বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা মানা হয়। কোথাও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পুজো হয়। আচার বিচার যেহেতু বেশি, তাই পুজো, আরতি এবং অঞ্জলির সময় মন্দিরগুলিই ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। মন্দির কমিটিদের বক্তব্য, তাঁদের প্রতিমায় মাতৃমূর্তি ফুটিয়ে তোলা হয়। নবপত্রিকা স্থাপন থেকে শুরু করে অপরাজিতা পুজো শাস্ত্রীয় মতে দুর্গাপুজোর যতরকম বিধি রয়েছে, সেগুলি সঠিকভাবে মানা হয়। ঘড়ি ধরে ৪৮ মিনিটে দেবীর সন্ধিপুজো সমাপন করা হয়। প্রতিটি মন্দিরে ফ্লেক্সে পুজোর নির্ঘন্ট টাঙানো রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত মন্দিরগুলিতে একচালার প্রতিমা হয়।

Advertisement

রানিবাগান এলাকায় রাস্তার পাশেই রয়েছে সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির নিজস্ব মন্দির। এবার এই পুজো ৬৪ বছরে পড়ল। কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৌম্য বিশ্বাস, সৌমিক সান্যাল জানালেন, কমিটির পরিবর্ত হয় নিশ্চয়ই। কিন্তু আমাদের পুজোর প্রথার হেরফের আজও হয়নি। লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড ইয়ংস কর্নার মাঠে রানিবাগান দুর্গাপুজো কমিটির পুজোও দীর্ঘদিনের পুরানো। মন্দিরে পুজো হলেও এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গোরাবাজার গঙ্গা পাড়ে উমাসুন্দরী পার্ক কমিটির নিজস্ব বিশাল মন্দির রয়েছে। কমিটির অন্যতম সদস্য ইন্দ্রনীল গুপ্ত বলেন, আমাদের পুজো এবার ৮০তম বর্ষে পা রাখল। বরাবর এখানে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পুজো হয়। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। গোরাবাজার বটতলা মন্দির কমিটিরও নিজস্ব মন্দিরে পুজো হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। গোরাবাজার জজ কোর্টের পিছনে নিরুপমা সমিতির শুদ্ধ শ্রাস্ত্রমতে পুজো হয় তাঁদের নিজস্ব মন্দিরে। পাড়ার সমস্ত মহিলাই এই পুজোর আয়োজন করেন। সন্ধিপুজোয় ১০৮ প্রদীপের আরতি দেওয়া হয়। দেবীর পায়ে ১০৮ পদ্ম উৎসর্গ করা হয়। উকিলাবাদ দুর্গোৎসব কমিটির পুজো এবার ৭৭তম বর্ষে পড়ল। রাস্তা থেকে বেশ কয়েকটা সিঁড়ি ডিঙিয়েই মন্দিরে উঠতে হয়। বিশাল মন্দিরেই প্রতিমা তৈরি হয়। কমিটির কোষাধ্যক্ষ মুন্না ঘোষ বলেন, আমাদের মন্দিরে সন্ধিপুজো ও নবমীতে মানুষের ঢল উপচে পড়ে। অতি নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা দুর্গাপুজো করে আসছি।