নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উন্নয়নের ফিরিস্তি এবং প্রকল্পের তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অন্ধ্রপ্রদেশের রায়লসীমায় হাজির হয়েছিলেন রবিবার। তিনি সবেমাত্র ভাষণ শুরু করবেন। কিন্তু এই প্রথম দেশের মধ্যে এক অভাবিত বিক্ষোভ দেখা গেল সাধারণ জনতার মধ্যেই। মঞ্চের সামনে থাকা জনতা উঠে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে চিৎকার, হইচই, স্লোগান দিতে শুরু করল। মঞ্চ থেকে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে বোঝা সম্ভব হচ্ছিল না যে, কী কারণে এই হইচই। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝলেন যে, তাঁকে সামনে পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা কাজ চাইছে। রোজগার চাইছে। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলা হচ্ছে, কাজ দিন, আয় নেই, জল নেই। তিনি বারংবার বলার চেষ্টা করেন যে, রায়লসীমার জন্য বেশ কিছু উন্নয়নের রূপরেখা আর উপহার নিয়েই এসেছেন তিনি। সেই প্রকল্পগুলি ঘোষণা করবেন। কিন্তু জনতা শোনেনি। বিক্ষোভ চলতেই থাকে। প্রবল বিব্রত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে রক্ষা করতে উঠে আসেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি পোডিয়ামে এসে জনতাকে শান্ত করতে বলেন, রায়লসীমার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা আপনাদের শোনা দরকার। আমাদের উন্নতির কথাই বলা হবে। নাইডুর আহ্বানে শান্ত হয় জনতা। রবিবার এই নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন। কিন্তু তারপরই সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ভিন্ন জল্পনা। বিরোধীদের প্রশ্ন, সবটাই চন্দ্রবাবু নাইডুর সাজানো নয় তো? তিনি রয়েছেন। পবন কল্যাণ উপস্থিত। এরকম সভায় তাঁদের সমর্থকরাই আসবে এটাই কাঙ্ক্ষিত। সুতরাং তারা নিশ্চয়ই চাইবে না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সামনে নাইডু অস্বস্তিতে পড়ুন। তাহলে কি নাইডুর অঙ্গুলিনির্দেশেই এই নাটক! অর্থাৎ নাইডু মোদি সরকারকে বার্তা দিতে চাইলেন যে, কেন্দ্র ক্রমেই সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে! মানুষের ক্ষোভ আছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে সেই ক্ষোভ উগরে করে দিল তারা। তিনি নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতেই দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি উঠে দাঁড়াতেই সব ক্ষোভ বিক্ষোভ শান্ত। যদিও বিজেপি সোমবার বলেছে, এরকম ঘটনা ঘটেনি। ভুল প্রচার করছে হতাশ কংগ্রেস। আসলে যারা উঠে দাঁড়িয়েছিল, তারা এনডিএ এবং মোদি সরকারের জয়ধ্বনিই দিয়েছে। কংগ্রেস মিথ্যা প্রচার করছে।



