রাজনীতির হাওয়া দ্রুত বদলাচ্ছে
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কথা ছিল, এবছর পুজোয় মোদি-অমিত শাহ তাড়িয়ে তাড়িয়ে বাংলা জয়ের উৎসব পালন করবেন। ইডেন দিয়ে ২১ রাজ্য জয়ের মহোৎসব শুরু হবে। সেই সাফল্যের ভিতের উপরই আগামীতে পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ জয়ের পটভূমি রচিত হবে, এই ছিল হিসাব। তারপর ঊনত্রিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের সলতে পাকানো। আবার পাপ্পু বধ করে বিকশিত ভারত ২০৪৭ সালের দিকে শক্ত পায়ে যাত্রা। কিন্তু হঠাৎ কেমন যেন সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় একমাস আচমকাই ক্ষমতার অলিন্দে উলটো হাওয়ার দাপট। ফল কী হবে জানি না। ভোটের যন্ত্রে প্রভাব কতটা পড়বে তাও ভবিষ্যতের গর্ভে। তবে একটা বিপরীত ঢেউ কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে। যে দমকা হাওয়ার শুরু ককরোচ আন্দোলনের জেরে  শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাধ্য হয়ে ইস্তফা প্রদানের মধ্যে দিয়ে, তাই যেন আরও একটু জোরে বইছে। বাঘেরা একবার রক্তের স্বাদ পেলে আর থামে না। এ পুরানো প্রবাদ। জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত যদি এই আন্দোলন চলে তাহলে নৈতিকভাবে সরকারের ঘোরতর পরাজয় হবে। এই সংকট কীভাবে তিনি সামাল দেন, সেটাই এখন মোদিজির অগ্নিপরীক্ষা। 

Advertisement

গত ২ অক্টোবর থেকে অকস্মাৎ সরকারের ‘ক্যাচ টোয়েন্টি টু’ সিচুয়েশন। যন্তরমন্তর, সংসদ ভবন, নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট সর্বত্র অভিযান। বলা নেই কওয়া নেই কোথা থেকে ভীমরবে হাজার হাজার কোকরোচ হাজির। পাশে আবার দোসর কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। যারা একে অপরের মুখ দেখত না, বিশ্বাস করত না, তারাই দূরত্ব ঘুচিয়ে হাত মেলাচ্ছে অকাতরে! অবরুদ্ধ দিল্লি। উত্তাল মুম্বই। উত্তেজনা পাটনা থেকে বাংলার রাজপথেও। বিগত ১২ বছরের শাসনে এই প্রথমবার কেন যেন মনে কু ডাকছে, বিজেপি কর্মকর্তাদের মুখের হাসি মুহূর্তে উধাও। একটা অজানা আশঙ্কা। জেন জি আন্দোলনের ধাক্কায় মোদি সরকার ও শাসক দলটাকে বড্ড দিশাহারা দেখাচ্ছে। একঝাঁক মুখপাত্র, সিনিয়র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সর্বভারতীয় সভাপতিকে দিয়েও ড্যামেজ কন্ট্রোল না হওয়ায় মরিয়া হয়ে নামতে হচ্ছে সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহকে! যা কি না অপ্রত্যাশিত বললেও কম বলা হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও আন্দোলন, ধরনা বিক্ষোভ কিছুতেই থামার নয়। কিছুটা বেপরোয়া হয়েই বিরোধীরা যেমন এককাট্টা তেমনি গত বুধবার জেন জিদের পাশে দাঁড়িয়ে চোয়াল শক্ত করে রাহুল গান্ধী যেভাবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিলেন তাও বড়ো বদলের ইঙ্গিত। পাপ্পু বদল গিয়া, বলছে কংগ্রেস। সেই কারণেই রাহুলের হুঁশিয়ারির ঝাঁঝও কেমন অন্যরকম। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলছেন, যুবদের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে যাবেন না। 
সরকারও জমি ছাড়তে রাজি নয়। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামায় আন্দোলনকারীদের প্রতি নৃশংস আচরণের অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের মারে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিগৃহীতাকে হাজির করালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন ওই তরুণী। রাহুল গান্ধীর পাশে উপস্থিত ছিলেন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন কংগ্রেস ও এনএসইউআই  কর্মী। সেখানেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কেরলমের আথিরা তাঁর উপর পুলিশি নির্যাতনের কথা তুলে ধরলেন। এর আগে রাহুল এক যুবকের কথা বলেছিলেন। তাঁকে নাকি অন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু আথিরাই নন, বৈঠকে এনএসইউআই-এর এক মহিলা কর্মীও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁকে ‘শেরনি’ বলে সম্বোধন করে রাহুল গান্ধী জানান, প্রবল মারধর করা সত্ত্বেও ওই তরুণীর মনোবল ভাঙেনি। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চলা এই বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই সরব বিরোধীরা। কনট প্লেস সহ মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলা টানা এই আন্দোলনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। কংগ্রেসের যুব নেতাদের অভিযোগ, আটক করার পর প্রিজন ভ্যানে বা বাসের মধ্যে তাঁদের উপর নৃশংসভাবে লাঠিচার্জ করা হয়। গোপনাঙ্গেও লাথি মারা হয়। অনেক নাবালককে আটক করা হয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকি বহু সাংবাদিকও পুলিশের হাতে নিগৃহীত হন। একের পর এক গুরুতর অভিযোগে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এখন চরম বিতর্কের মুখে। এসআইআর-এ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কার্যত ফুঁসছে গোটা দেশ। জোরাল হচ্ছে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি। কিন্তু অত্যাচার, পুলিশি নিগ্রহ করে আন্দোলন থামানো যায় না। বরং আরও তীব্র হয়। মোদি সরকারের উচিত আন্দোলনকারীদের ডেকে কথা বলা। দিল্লিকে শান্ত করা। নাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। পুলিশের লাঠি কিংবা আধাসেনার বন্দুক কিংবা পেলেট গান সমাধান নয়। কমিশনকেও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে সব সঠিক তথ্য সামনে আনতে হবে। মানুষ যেন নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা না হারায়। মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে গণতন্ত্রের সর্বনাশ। সিস্টেমটা পচে গেলে কে রাহুল আর কে মোদি! তাই দয়া করে সোনার ডিম পারা হাঁসটাকে কেটে খেয়ে ফেলবেন না। বাকিটা জনগণ ঠিক করবে।