নয়াদিল্লি: এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে চলা আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল নতুন তথ্য। স্বাধীনতার পর থেকে দেশজুড়ে মোট আটবার ভোটার তালিকা সংশোধনে নিবিড় সমীক্ষা চালিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের সমীক্ষা বাদে প্রতিটিকেই বলা হয়েছিল ইন্টেনসিভ রিভিশন। শুধুমাত্র ২০০২ সালের সমীক্ষাটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্পেশাল রিভিশন অব ইন্টেনসিভ নেচার’। তবে কোনোবারেই ভোটার তালিকায় থাকা নামের সংখ্যা কমে যায়নি। এবারই প্রথম তা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের তথ্য-পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত এসআইআরে মোট ৯৫ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারের উপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এঁদের মধ্যে অনুপস্থিত বা শনাক্ত করা যায়নি ৩.০১ কোটি ভোটারকে। স্থায়ীভাবে অনত্র বসবাসকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩০ লক্ষ। মৃত ২ কোটি ৮০ লক্ষ। ডুপ্লিকেট ১ কোটি ২ লক্ষ ও অন্যান্য ২৬ লক্ষ। পরবর্তীকালে গোটা দেশের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলে এই সংখ্যা বদলাতে পারে।
এসআইআরে দেশজুড়ে ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও পি রাওয়াত বলেছেন, ‘আগে ভোটারকে কোনো ফর্ম ফিল-আপ করতে হত না। বিএলও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। সেই অনুযায়ী তালিকাও পরিবর্তন করতেন। তবে এবার ২০০২ সালের তথ্য দিতে হচ্ছে। তা না দিতে পারলে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথি জমা দিতে বলা হয়েছে, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। অনেকেই যথেষ্ট সহযোগিতা না পাওয়ায় নিজের নাম তালিকায় রাখতে পারেননি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এসআইআরে ভুল তথ্য দিলে শাস্তির বিধানের কথা রয়েছে। সেই কারণে অনেকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাননি। রাওয়াত মনে করেন, বহু যোগ্য ব্যক্তির নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের নাম যুক্ত করার বিশেষ অভিযান একেবারেই যুক্তিযুক্ত।



