সারা রাজ্য থেকেই এবার বিদায় নিল বর্ষার মরশুম
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবারই কলকাতাসহ প্রায় গোটা রাজ্য থেকে এবারের মতো বিদায় নিল বর্ষার মরশুম। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, রাজ্যের উপকূলবর্তী কিছু এলাকা ছাড়া সব জায়গা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে রাজ্যের ওইসব এলাকাসহ দেশের বাকি অংশ থেকে বর্ষার বিদায় হতে চলেছে। উত্তর-পূর্ব ভারত, ওড়িশা ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে এখন দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আছে। সেখান থেকে তা কয়েকদিনের মধ্যে সরে যাবে। তারপরই দক্ষিণ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্ষাকাল শুরু হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশ থেকে এবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় প্রায় স্বাভাবিক সময়ে হয়েছে।

Advertisement

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে উত্তর-পশ্চিমি শুকনো হাওয়া প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বর্ষা বিদায়ের এটা অন্যতম মাপকাঠি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন ২২-২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় তাপমাত্রা এখন স্বাভাবিক রয়েছে। কলকাতায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৫.১ ডিগ্রি) প্রায় স্বাভাবিক ছিল। একইভাবে প্রায় স্বাভাবিক ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও (৩২.৮ ডিগ্রি)। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সময় যত গড়াবে তত ভোর ও রাতের দিকে খুব হালকা শীতের অনুভূতির মাত্রা বাড়বে। এটা প্রথম দিকে বেশি অনুভূত হবে গ্রামের দিকে, বিশেষ করে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে। তবে বর্ষা বিদায় নিলেও অক্টোবরে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে কয়েকদিনের মধ্যে যে নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে তার পরোক্ষ প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে। বুধবারও উপকূলবর্তী এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অক্টোবর মাসে কলকাতায় স্বাভাবিক দীর্ঘকালীন গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭৯ মিমি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ৫২৩ মিমি বৃষ্টিপাতের নজির কলকাতায় আছে। ওইবছর ২৬ অক্টোবর একদিনে ১০৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে কোনো শক্তিশালী নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়লে তবেই অক্টোবরে এত বেশি বৃষ্টি হয় কলকাতায়। তা নাহলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয় মাঝে মাঝে।