২৯ মার্চ, ২০২৬। এক ঝটকায় বদলে দিয়েছে জীবন। প্রিয় বন্ধুর আচমকা প্রয়াণ। হতবাক মেয়েটি কাঁদতেও ভুলে গিয়েছিল। নাবালক সন্তান, বৃদ্ধা শাশুড়ি সকলকে প্রাণপণে আগলে রেখেছে সে। সকলের আশ্রয় হয়ে উঠেছে মা দুগ্গার মতো। ‘স্ট্রং উওম্যান’ তো, তাই জনসমক্ষে চোখের জল পড়লে হবে না। আবার কেন কাঁদছে না, তা নিয়েও সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ! কোথায় যাবে মেয়েটি? কার কোলে মুখ লুকোবে? দায়িত্বের ভিড়ে তারও তো ক্লান্ত লাগে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই জীবন বাঁচতে ভালোবাসে এই মেয়ে। আর প্রিয় বন্ধুর প্রয়াণ তাকে শিখিয়েছে আজ মানে আজই। এখনই। মেয়েটি অর্থাৎ অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এবছরের দুর্গাপুজো তাঁর কাছে সত্যিই অন্যরকম।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় চলে গিয়েছেন এবছরের মার্চে। বাবাকে হারিয়েছে সহজ। আর প্রিয়াঙ্কার জীবন থেকে মুছে গিয়েছে প্রিয় বন্ধুর নাম। কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে বাস্তব। তাও তিনি পালিয়ে যাননি। হাল ছেড়ে দেননি। চুটিয়ে কাজ করছেন। ছেলে সহজকে আগলে রেখেছেন বন্ধুর মমতায়।
পুজোতে শহরে থাকছেন? স্মিত হেসে প্রিয়াঙ্কার জবাব, ‘জীবনের নানা পর্যায়ে নানা ভাবে পুজো কাটিয়েছি। কলকাতাতেও বেশ কয়েকটা পুজো কেটেছে। তখনই বুঝেছি পুজোয় কলকাতা ছেড়ে যাওয়া যাবে না। কলকাতাতেই থাকব এবছরও। পুজোর সময় কলকাতা এত সুন্দর করে সেজে ওঠে, তা দেখতে চমৎকার লাগে। আমি ঠাকুর দেখতে ভালোবাসি। আর এই সময়টা আমাদের কাজেরও সময়।’
কাজ থাকলে প্রিয়াঙ্কা কাজের জায়গায়। আর নাহলে বাড়ির অন্দরে। এটাই তাঁর রুটিন। পুজোর ব্যস্ততার মধ্যে ছেলেকে সময় দেবেন কীভাবে? ‘আমি সবটাই ব্যালেন্স করে করার চেষ্টা করি। হয়তো সহজকে নিয়েই ঠাকুর দেখতে গেলাম। পুজো পরিক্রমাতেও ওকে নিয়ে যাই। আসলে ব্যস্ত থাকা, কাজের মধ্যে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ’, ঝলমলে হাসি তাঁর মুখে।
নতুন শাড়ি, গয়নায় পুজোর সাজে পেশাদার দায়িত্ব পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা। ফোনে কখনো খোঁজ নিচ্ছেন সহজের। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন শোক ব্যক্তিগত। তা ব্যক্তিগতই থাক। অষ্টমীর অঞ্জলিতে, সন্ধি পুজোর আরতিতে, দশমীর সিঁদুর খেলায় এবছর হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর মুখ খুঁজে পাবেন প্রিয়াঙ্কা। হয়তো এখন থেকে প্রতি বছরই সে মুখ ফিরে আসবে ঢাকের বোলে, শিউলির আলপনায়। সে মুখ বড়ো যত্নে নিজের ভিতরে লালন করেন তিনি। প্রিয় বন্ধুর হাসিমুখই তাঁর আগামীর পাথেয়।



