নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র যন্তরমন্তর কর্মসূচি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকেই কড়াকড়ি শুরু করেছিল পুলিশ। ট্রেন-মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাস্তাও ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা গেল না। শনিবার দিনভর কার্যত দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেললেন তাঁরা। অনেক জায়গাতেই শুক্রবার রাত থেকেই পাবলিক টয়লেট, গুরুদ্বারে লুকিয়ে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। এদিন মিছিল করে যাওয়ার সময় যখনই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করার চেষ্টা করেছে, তখনই গুরুদ্বার সহ বিভিন্ন উপাসনাস্থলে আশ্রয় নেন তাঁরা। এদিকে, পুলিশের সামনেই বিজেপির লোকজন বিক্ষোভকারীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস সহ বিরোধীদের।
কনট প্লেসের এনডিএমসির গণশৌচাগারের ভিতরে শুক্রবার রাত থেকে ২০ জন তরুণ লুকিয়ে ছিলেন। শনিবার সকালে সেখানে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁদের খুঁজে পায় পুলিশ। অভিযোগ, জোর করে দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। মুখ ঢেকে তাঁদের গাড়িতে তোলা হয়। আটক করার পরেও ওই বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। কনট প্লেস ছাড়াও আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই ‘পরিকল্পনা’ করেছিলেন সিজেপি সমর্থকরা। পুলিশ যাতে আটক করতে না পারে, তার জন্য স্লোগান দিয়েই লুকিয়ে পড়ছিলেন তাঁরা।
গত জুলাইয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি চলাকালীন আন্দোলনকারীদের অন্যতম ‘আশ্রয়স্থল’ ছিল গুরুদ্বার বাংলা সাহিব। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কাউকে আশ্রয় না দেওয়ার জন্য গুরুদ্বার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। যদিও তা মানতে রাজি হননি বাংলা সাহিব কর্তৃপক্ষ। তাঁদের তরফে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা প্রত্যেকেই নিরস্ত্র, তাঁরা ভিতরে কোনো স্লোগানও দেননি। তাই পুলিশকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আশ্রয় নেওয়া আন্দোলনকারীরা বারবার বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখিয়ে ফের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছিলেন। বেশ কয়েকবার এরকম হওয়ার পর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। যদিও গুরুদ্বারের ভিতরে পুলিশকর্মীদের ঢোকা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে একা পেয়ে তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মারধর থেকে বাদ যাননি মহিলারাও। কংগ্রেসের তরফে এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে একাধিক ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। হাত শিবিরের অভিযোগ, মোদি-শাহ সারা দেশজুড়ে গুন্ডাদের রাজত্ব কায়েম করেছে। দিল্লি পুলিশের চোখের সামনেই বিজেপি-আরএসএসের গুন্ডারা বিক্ষোভকারীদের মারধর করছে। আন্দোলনকারীদের পুলিশের সামনে গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ।



