অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: চাকরি বাঁচাতে গেলে টেট-এ বসতেই হবে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এমনই আশঙ্কা রাজ্যের অন্তত এক লক্ষ শিক্ষকের। সেই তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনও। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু কর্মসূত্রে তিনি ফালাকাটার দেওগাঁও হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সর্বেসর্বা হলেও বাধ্যতামূলক এই টেট নিয়ে তিনি যে আশঙ্কায় ভুগছেন, সেকথা একেবারে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন। তবে স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পরীক্ষায় বসার বিষয়টি স্কুলশিক্ষকদের সান্ত্বনা দেবে নাকি আরও আশঙ্কায় ফেলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নির্বাচনের আগে বাংলায় এসে বলেছিলেন, ‘পালাবদল হলে নতুন সরকার আবশ্যিক টেট নিয়ে পদক্ষেপ করবে।’ স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীও গত মাসে বলেছিলেন, ‘শিক্ষকদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। একটি সরকারি অর্ডার বেরবে।’ তা না হওয়ায় শাসকপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলিও রীতিমতো চাপে রয়েছে।
সাধারণভাবে অবশ্য হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকদের এই টেট-এর আওতায় আসার কথা নয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক (অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত)—এই বুনিয়াদি স্তরে পাঠদানে নিযুক্ত শিক্ষকদের জন্যই টেট আবশ্যিক করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বি এড, স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী দীপকবাবুও তো হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাহলে তাঁর টেট দেওয়ার প্রসঙ্গ আসছে কেন? বৃহস্পতিবার এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘প্রধান শিক্ষকের পদটি আমার বিদ্যালয়ে আপার প্রাইমারি সেকশনে ছিল। সেকারণে দিতে হতেও পারে। দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি আরও ভালো বলতে পারবেন।’
বুধবার আবশ্যিক টেটের প্রতিবাদে বিকাশ ভবন অভিযান করেছিল চারটি শিক্ষক সংগঠনের একটি মঞ্চ। গেটে পুলিশের সঙ্গে ঠেলাঠেলি, স্লোগান-বিক্ষোভের পর একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপিও জমা দেয়। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজের টেটে বসার সম্ভাবনার কথা জানান বলে খবর। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি অশোক রুদ্র এদিন বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের বলেছেন, আমার প্রায় আট বছর চাকরি রয়েছে। আমাকেও টেট দিতে হতে পারে। এটা তিনি আমাদের সান্ত্বনা দিতে বলেছেন কি না জানি না। তবে, শুনে আমরা স্তম্ভিত। রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে আমাদের নিজেদের মধ্যেই। তাহলে আমাদের কী হবে!’
যদিও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক নেতার বক্তব্য, ‘আমাদের ধারণা, মন্ত্রী কিছুটা সান্ত্বনা দিতেই একথা বলেছেন। কারণ, আমাদের রাজ্যে ২০১৬ সালের আগে উচ্চ প্রাথমিক বলে কিছু ছিল না। নর্মাল সেকশনে নিযুক্ত শিক্ষকরা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিতেন। তাঁদের এর আওতায় আসার কথা নয়। তাছাড়া, তিনি এখন চাকরি থেকে ছুটিতে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে অন্তত পাঁচ বছর এই ছুটি তাঁর প্রাপ্য। ফের স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় বছরতিনেক চাকরি বাকি থাকবে দীপকবাবুর। আর সুপ্রিম কোর্ট তো পাঁচ বছরের কম সময় চাকরিজীবন বাকি থাকা শিক্ষকদের ছাড় দিয়েছে।’