সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একটা খামের জন্য অধীর প্রতীক্ষা। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টি শুনলেই দরজার দিকে ছুটে যাওয়া। পরিচিত হাতের লেখায় কয়েকটি অক্ষর পড়তেই দূরে থাকা প্রিয়জনের সান্নিধ্য অনুভব করা। একসময় দৈনন্দিন জীবনের এমনই অনুষঙ্গ ছিল চিঠি। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা থেকে মনের অব্যক্ত অনুভূতির প্রকাশ, সবেতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত কাগজে লেখা সেই বার্তা। সময়ের আবর্তে আজ সেই পরিচিত ছবি ক্রমশ ফিকে হয়ে গিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতিতে যোগাযোগের পরিসর বেড়েছে, অথচ হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠি লেখার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
বর্তমানে ব্যস্ত জীবনের তাগিদে দ্রুততম যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে অগ্রাধিকার পাচ্ছে স্মার্টফোন। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে বার্তা কিংবা ভিডিও কলের সাহায্যে কয়েক মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে শুভেচ্ছা। বিজয়া দশমীর প্রণাম জানানো হোক কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ, ডাকঘরে গিয়ে পোস্টকার্ড কেনা, ঠিকানা লেখা এবং ডাকবাক্সে ফেলে আসার প্রচলিত রীতির বদলে জায়গা করে নিয়েছে মুঠোফোন। সময় ও শ্রমের সাশ্রয় ঘটলেও কাগজের পাতায় অনুভূতি ব্যক্ত করার অভ্যাসে পড়েছে ভাটার টান। স্থানীয় ডাকঘরের কর্মী মৃত্যুঞ্জয় ভাদুড়ী বলেন, দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের চাহিদা কমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনের সহজলভ্যতার কারণে সেই পুরনো অভ্যাস থেকে সরে এসেছেন অধিকাংশ মানুষ। বর্তমানে ডাকঘরে কিছু সরকারি দপ্তর ও আইনি চিঠি এলেও ব্যক্তিগত খামের আনাগোনা আগের তুলনায় নগণ্য। স্থানীয় বাসিন্দা অনিতা দত্ত বলেন, চিঠির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির স্মৃতি ও আবেগ। প্রযুক্তির কল্যাণে বার্তা আদান-প্রদান সহজতর হলেও হাতে লেখা কয়েকটি শব্দের আন্তরিকতা স্বতন্ত্র। সময়ের অভাব ও যন্ত্রনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে নতুন প্রজন্মের কাছে সেই অভ্যাস ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠছে। ফাঁকা ডাকঘরের চিঠির র্যাক।



