Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাল্টেছে সরকার, চর্চায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ

বিধানসভা ভোটে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ঘাটাল মহকুমায়। দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশায় যে প্রকল্প শুরু হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার সেই কাজ আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চালিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছে মানুষের মধ্যে।

পাল্টেছে সরকার, চর্চায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ
  • ৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিধানসভা ভোটে রাজ্যে সরকার বদলের পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ঘাটাল মহকুমায়। দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশায় যে প্রকল্প শুরু হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার সেই কাজ আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চালিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে চর্চা চলছে মানুষের মধ্যে। কয়েক মাস আগেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ হিসেবে নদী ড্রেজিং, পাম্প হাউস তৈরি ও স্লুইস গেট বসানো শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখেছিলেন ঘাটালবাসী। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সেই কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেচদপ্তরের এক  ইঞ্জনিয়ার বলেন, আগামী সপ্তাহটা না কাটলে এনিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। 

Advertisement

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশ অর্থ বহন করার কথা। ২০১৪ সালে প্রায় ১২৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুমোদন মেলেনি। এরপর রাজ্য সরকার ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১৫ কিলোমিটার নদী ও খাল সংস্কারের কাজ করে। তারপরও ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ নিয়ে সংসদে বার বার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। কিন্তু তাতেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো আমল দেয়নি বলে অভিযোগ।  ফলে  ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের তৃণমূল সরকার ৫০০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করে নিজেদের উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। নির্বাচনের আগে নদী সংস্কার ও ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি ঘাটাল শহরে দু’টি পাম্প হাউস বসানো এবং একাধিক স্লুইস গেট নির্মাণ শুরু হয়েছিল। 
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে দুই মেদিনীপুরের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। নদীবাঁধ সংস্কার, খাল খনন, পাম্প হাউস ও আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতি বছরের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, এখন সেটাই প্রশ্ন। 
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার এই কাজ চালিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি। চালিয়ে গেলেও বর্ষার মধ্যে কতটা অগ্রগতি হবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে আমরা নতুন সরকারের কাছেও মাস্টার প্ল্যান অবিলম্বে রূপায়ণের জন্য দাবি রাখব।
এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। তৃণমূলের ঘাটাল ব্লক সভাপতি দিলীপ মাজি বলেন,  আমরা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে টেনশনে রয়েছি। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, তাই চাইব বিজেপি সরকার এই কাজ চালিয়ে যাক। একই সুর শোনা গিয়েছে ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বিকাশ করের গলায়। তাঁর বক্তব্য, কোনো কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেলে সেই কাজ পরবর্তী সরকার চালিয়ে যায়। মানুষের স্বার্থে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানও চালু থাকবে বলেই বিশ্বাস করি। তবে ঘাটালের জয়ী বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি,  যে ভাবে কাজ চলছে, তাতে ঘাটাল মহকুমা ও আশপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি মিটবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডিপিআর তৈরি করে নতুন ভাবে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু ও শেষ করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ