সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বহু বছর আগে মারণ কলেরা থেকে মুক্তির জন্য মল্লরাজারা পটে আঁকা খচ্চরবাহিনীর পুজো চালু করেছিলেন। বীরসিংহের কর্মকার পরিবারের এক পটুয়া শিল্পী ওই পট আঁকার পরেই মারা যান। তারপর থেকে পুজোয় অন্য দেব,দেবীর পট আঁকা হলেও মূলত মৃত্যুভয়ের কারণেই খচ্চরবাহিনীর পট কেউ আঁকতে চাননি।এরপর মল্লরাজদের আমল অতীত হয়েছে। দ্বারকেশ্বর দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কিন্তু ২০১১ সালে ঘটে গেল নজিরবিহীন এক কাণ্ড। নিজের মৃত্যুর আশঙ্কাকে দূরে সরিয়ে জামকুড়ির রাজবাড়িতে খচ্চরবাহিনীর পট এঁকেছিলেন পাত্রসায়রের বীরসিংহ গ্রামের বধূ কৃপাময়ী কর্মকার। আর সেই পটেই জামকুড়ির রাজবাড়িতে নবমীর দিন গভীর রাতে আজও খচ্চরবাহিনীর পুজো হয়। কৃপাময়ীদেবীই প্রতি বছর রাজপরিবারের পুজোয় পটের তিন দেবীর ছবি আঁকেন। তাতেই হয় আরাধনা।
কৃপাময়ীদেবীর কথায়, আমাদের পরিবার বংশানুক্রমে জামকুড়ির পুজোয় পট আঁকছেন। আমি এই পরিবারে বধূ হয়ে আসার পর থেকে পট আঁকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ি। প্রতিবছর পুজোয় বড়ো ঠাকুরানি, মেজ ঠাকুরানি এবং ছোটো ঠাকুরানির পট আঁকা হয়। কিন্তু রাজাদের নির্দেশ সত্বেও মৃত্যু ভয়ে খচ্চরবাহিনীর পট আমাদের পরিবারের কয়েক পুরুষ ধরে কেউ আঁকতে সাহস পাননি। তবে মৃত্যুভয় জেনেও রাজ পরিবারের নির্দেশ মেনে ২০১১সালে খচ্চর বাহিনীর পট এঁকে দিয়েছি। সেই পটেই এখন পুজো হচ্ছে।
কৃপাময়ীদেবী এও বলেন, দেবীর অশেষ কৃপা। আমার আঁকা পটে তিনি পুজো পাচ্ছেন। সেজন্যই বোধহয় আমাকে দেবী করুণা করেছেন।
জামকুড়ির রাজপরিবারের এক সদস্যর বক্তব্য, বহু বছর আগে খচ্চরবাহিনীর যে পট আঁকা হয়েছিল তাঁর ভয়ংকর রূপ ছিল। ভাঁজ করে রাখার কারণে তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কর্মকার পরিবারের পূর্বপুরুষরা প্রতিবছর তিন ঠাকুরানির পট আঁকলেও খচ্চরবাহিনীর পট কেউ আঁকতে চাননি। তবে ওই পরিবারেরই বধূ কৃপাময়ীদেবী এঁকেছেন। নবমীর গভীর রাতে খচ্চরবাহিনীর পুজো হয়।
পাত্রসায়র ব্লকের জঙ্গলঘেরা বীরসিংহ গ্রামে হাটতলার কাছেই কৃপাময়ীদেবীর বাড়ি। তিনি ছাড়াও বাড়িতে স্বামী গোপাল কর্মকার, ছেলে অরূপ ও পুত্রবধূ বৃষ্টি রয়েছেন। কৃপাময়ীদেবী বর্তমানে জামকুড়ির পুজোর পট ছাড়াও নিজের গ্রাম বীরসিংহেও একটি দুর্গা পট আঁকেন। প্রতিবারের মতো এবারেও বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই তিনি পট আঁকা আরম্ভ করেছেন। পরিবারের ধারা বজায় রাখতে পুত্রবধূ বৃষ্টি কর্মকারও শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে পট আঁকায় হাত লাগিয়েছেন।