সংবাদদাতা, কাটোয়া : কাটোয়ায় শ্রীখন্ডের মজুমদার বাড়িতে দস্যুদের লুটপাটের জন্য নাকি মা দুর্গা স্বয়ং মাটির দেওয়ালে লুকিয়ে ছিলেন! সেই থেকেই কাঁথেশ্বরী নামে পরিচিত মজুমদার বাড়ির এই দুর্গা। ‘কাঁথ’ শব্দের অর্থ মাটির দেওয়াল। একসময় দস্যুদের হামলার হাত থেকে বাঁচতে দেবী নিজেই নাকি মাটির দেওয়ালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারপর থেকেই কাঁথেশ্বরী নামে শ্রীখণ্ড গ্রামে পূজিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা। কাটোয়া মহকুমার প্রাচীনতম পুজোগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। কাঁথেশ্বরী দুর্গাপুজো ঘিরে অনেক জনশ্রুতি আছে।
মজুমদার বাড়ির সদস্য দীপক মজুমদার জানান, আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন নরনাথ দাশশর্মা। তখন থেকেই বাড়িতে দুর্গাপুজো চলে আসছে। তখন কাঁথেশ্বরী নামে পূজিত হতেন না দেবী। নরনাথের পঞ্চম পুরুষ দুর্জয় দাশশর্মা প্রথমে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু করেন। সেই অষ্টধাতুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় মাটির মন্দিরে। এই ঘটনার বেশ কয়েকবছর পরে দেশে অস্থির অবস্থা তৈরি হয়। বাইরে থেকে আসা দস্যুরা দেশজুড়ে লুঠপাট চালাতে শুরু করে। তখন মন্দিরগুলিতে বিপুল ধনসম্পদ থাকত। তাই মন্দিরগুলিতেও হামলা চালায় দস্যুরা। বাদ যায়নি শ্রীখণ্ডের কাঁথেশ্বরী মন্দিরও। সেই মন্দিরে হামলা চালাতে এসে দস্যুরা দেখে ভিতরে দেবীমূর্তি নেই! তা দেখে ফিরে যায় দস্যুদের দল। এদিকে মন্দিরে বিগ্রহ না দেখে বাড়ির সদস্য এবং পুরোহিত সবাই ভেবে নেন, দেবীমূর্তি লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে দস্যুরা। গ্রামের মানুষ ভেঙে পড়েন। পরে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন, মন্দিরের মাটির দেওয়ালে তিনি অবস্থান করছেন। সেই মত দেওয়াল ভেঙে বের করে আনা হয় দেবী মূর্তি। তখন থেকেই দুর্গার নাম হয় দেবী কাঁথেশ্বরী। এই দেবীর মূর্তিতেও বৈচিত্র আছে। আর পাঁচটা দুর্গাপ্রতিমার থেকে অনেকটাই আলাদা কাঁথেশ্বরীর প্রতিমা। এখানে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তিতে নেই অসুর ও সন্তান-সন্ততি। তার পরিবর্তে দুই সখী জয়া ও বিজয়াকে নিয়ে বিরাজ করছেন দেবী। তাঁর বাম হাতে উদ্যত খড়্গ, ডান হাত প্রসারিত। মার্কণ্ডেয় পুরাণে দেবীকে নানা নামে উল্লেখ করা হলেও কাঁথেশ্বরী নামের কথা কোথাও পাওয়া যায় না। এখনও প্রথা মেনে শাক্ত মতেই পুজো হয় দেবীর। এটা দাশশৰ্মা বাড়ির পুজো বলেই পরিচিত ছিল। পরে মজুমদার উপাধি প্রাপ্ত হন তাঁরা। পুজো ঘিরে গ্রামের বাসিন্দাদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। • নিজস্ব চিত্র



