শোলার সাজে দেবী, রামকৃষ্ণের পদধূলিধন্য ঘোষবাড়িতে প্রাচীন রীতি মেনেই দুর্গাপুজো
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কামারপুকুর থেকে দাদার সঙ্গে এলেন যুবক গদাধর। মধ্য কলকাতার ঝামাপুকুরে থাকার সময় ঠনঠনিয়া সিদ্ধেশ্বরী কালীর কাছে যাতায়াত করতেন। দেবী সিদ্ধেশ্বরীর প্রতি তাঁর অনুরাগ-ভক্তি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অটুট ছিল। শঙ্কর ঘোষ প্রতিষ্ঠিত ঠনঠনিয়া কালীমন্দির ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের সাধন জীবনের প্রথম ক্ষেত্র।

Advertisement

হাওড়ার বালি বারাকপুর গ্রামের ঘোষ পরিবার কলকাতায় এসে গোবিন্দপুর অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। কালের নিয়মে পরিবার বৃদ্ধি পায়। পরিবার দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে একটি ঠনঠনিয়ায় অন্যটি জোড়াসাঁকোয় বসত শুরু করে। কালীর একনিষ্ঠ ভক্ত, ধনী রামশংকর ঘোষ নিজের বাড়ির অদূরে বড়ো রাস্তার উপর গড়ে তোলেন শিবমন্দির ও কালীমন্দির। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর তিনি শংকর ঘোষ নামে খ্যাতি লাভ করেন। মন্দিরের দেওয়ালেও লেখা, ‘শঙ্করের হৃদয় মাঝে কালী বিরাজে।’ 
মন্দিরের বিপরীত গলিতে নিজের বাড়িতে শুরু করেন দশভুজা দুর্গার আরাধনা। জনশ্রুতি ১৬১৭/’১৮ নাগাদ পুজো শুরু। সেই পুজো আজ ৪০০ বছর অতিক্রম করেছে। ঘোষ পরিবারের রীতি অনুসারে কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিত এই বাড়িতে দুর্গাপুজো করে আসছেন। দুর্গাপুজোর সময় প্রতিদিন দুর্গা মণ্ডপ থেকে কালীর জন্য বিশেষ নৈবেদ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। শাক্ত রীতিতে পুজো হলেও বলি হয় না। আশ্বিনের কৃষ্ণানবমী থেকে শুরু হয় দেবীর বোধন। রুপোর অস্ত্রে দেবী সজ্জিত এখানে। প্রথা মোতাবেক প্রতিমার  শোলার সাজ।
নানারকম মিঠাই ভোগে দেবী এখানে পুজো পায়। প্রতিদিন হয় হোম।  দশমীতে দর্পণ নিরঞ্জনের পর অপরাজিতা পুজো শেষে হয় সুবচনী। পরিবারের মহিলাদের সিঁদুরখেলা শেষে দেবী চলেন গঙ্গা। এ বাড়ির সুবোধচন্দ্র ঘোষ ছিলেন রামকৃষ্ণদেবের অন্যতম পার্ষদ। তাঁর সরলতায় মুগ্ধ ছিলেন রামকৃষ্ণ থেকে শুরু করে স্বামীজি ও তাঁর গুরু ভাইয়েরা। যুবক বয়স থেকেই শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের সখ্যতার সুবাদে তিনি এই পরিবারের দুর্গাপুজোতেও এসেছেন হলে জানান পরিবারের প্রবীণ সদস্য অঞ্জনকুমার ঘোষ। রামকৃষ্ণ কথামৃতকার মহেন্দ্র গুপ্ত ছিলেন এই অঞ্চলেরই মানুষ। স্বামী বিবেকানন্দ সহ রামকৃষ্ণদেবের অন্যান্য শিষ্যরা প্রায় সকলেই এই বাড়িতে এসেছেন। ঠনঠনিয়া কালী মন্দিরের সেবায়েত ঘোষ পরিবার আজও পরম নিষ্ঠায় প্রাচীন রীতি মেনে ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরের মতোই দুর্গাপুজো সামলে চলেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদ স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ, স্বামী নিরঞ্জনানন্দের পূর্বাশ্রমের বাড়ির মতই স্বামী সুবোধানন্দের বাড়ির পুজো ঐতিহ্য আর নিষ্ঠায় আজও অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে।