উৎসব আনন্দময় করে তোলা ঢাকিদের পরিবার থেকে যায় চোখের আড়ালেই
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শারদোৎসব মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের দিনগুলি কাটানো। কিন্তু ঢাকি শিল্পীদের পরিবারের সঙ্গে পুজো কাটানোর সুযোগ নেই। উপার্জনের তাগিদে নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের ছেড়ে দূরদূরান্তের যেতে হয় তাঁদের। তাঁদের ঢাকের বাদ্যিতেই আনন্দে মেতে ওঠেন হাজার হাজার মানুষ। অন্যের উৎসবকে আনন্দময় করে তুলতে গিয়ে নিজেদের পরিবার থাকে আড়ালেই।

Advertisement

দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই বায়নার জন্য কৃষ্ণনগরে আসতে শুরু করেছেন ঢাকিরা। দিন যত এগোবে, ততই বাড়বে ঢাকিদের আনাগোনা আরও বাড়বে। নদীয়ার চাপড়া, দেবগ্রাম, কৃষ্ণনগরের পার্শ্ববর্তী পানিনালা থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও কাটোয়া থেকে ঢাকিরা আসেন কৃষ্ণনগরে।
যখন শহরবাসী নতুন পোশাক পরে, পরিবারের সঙ্গে পুজো মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। কিন্তু, তার কোনো সুযোগ নেই। স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে ছেড়ে রোজগারের আশায় যেতে হয় শহরে।
ঢাকিদের কথায়, মায়ের সামনে ঢাক বাজাতে পারাই আমাদের কাছে গর্বের। এই সময়টার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। কিন্তু আনন্দের মধ্যেও পরিবারের কথা মনে পড়লে মন খারাপ হয়ে যায়। পুজোর সময় বাড়িতে থাকতে পারলে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারতাম। কিন্তু সংসার চালাতে গেলে রোজগার করতেই হবে। তাই উপায় থাকে না। প্রিয়জনদের ছেড়ে আততেই হয়। দুর্গাপুজো দিয়ে শুরু হয় মরশুম শুরু হয়, তারপর কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী সহ আরও পুজো রয়েছে। শহরে স্থানীয় মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তারাও বিভিন্নভাবে আমাদের সাহায্য করেন
নির্মল দাস নামে এক ঢাকি  বলেন, ঢাক বাজানো আমাদের শুধু পেশা নয়, ভালোবাসাও। মায়ের সামনে ঢাক বাজাতে পেরে গর্ব হয়। কিন্তু যখন দেখি সবাই পরিবারের সঙ্গে পুজো কাটাচ্ছেন, তখন নিজের বাড়ির কথাও মনে পড়ে। রোজগারের জন্য সেই কষ্ট বুকে নিয়েই মায়ের সামনে ঢাক বাজাই।
আরও এক ঢাকি শিল্পী বাবলু দাস বলেন, মণ্ডপে ঢাক বাজানোর সময় মানুষের আনন্দ দেখে মন ভরে যায়। ঢাকের প্রতিটি আওয়াজ শুধু উৎসবের বার্তা বহন করে না, তার সঙ্গে মিশে থাকে এক একটি পরিবারের গল্প, জীবিকার লড়াই এবং প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার নীরব কষ্ট।