শোভন চন্দ, কলকাতা; ধুলো উড়িয়ে ছুটছে টানা দরজার মারুতি ভ্যান। মাথার উপর মাইক বাঁধা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন মা, কাকিমা, ঠাম্মা থেকে শুরু করে বাড়ির খুদেরা। ঘোষণা চলছে— ‘বন্ধুগণ আর কালবিলম্ব না করে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসুন। সুদূর কলকাতা থেকে আসছে হিট জুটি কুমার তাপস-মিস রূপা। আজ সন্ধ্যা ঠিক আট ঘটিকায় পরিবেশিত হবে, এবারের সুপারহিট যাত্রাপালা...।’ সময়ের ফেরে বদলেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মানুষের রুচি। আর ধীরে ধীরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প যাত্রাপালা। ৬৭তম বর্ষে যাত্রার সেই বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরছে তিলজলা অগ্রগামী ভ্রাতৃসংঘের দুর্গাপুজো। এবার তাদের থিম ‘যাত্রার আঙিনায় মাতৃ আরাধনা’।
সমগ্র ভাবনা ও মণ্ডপ তৈরির নেপথ্যে রয়েছেন রাহুল বোস ও সৌম্যজিৎ দে। তাঁদের কথায়, বাঙালির বিনোদন, প্রতিবাদ ও সমাজ চেতনার আঁতুড়ঘর ঐতিহ্যবাহী এই লোকসংস্কৃতি। ১৫০৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যাত্রার যে টিকে থাকার লড়াই, সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সমাজ যখনই পথ হারিয়েছে, মেকআপ আর উচ্চকণ্ঠের অভিনয়ের আড়ালে যাত্রা হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ মঞ্চ। সেই ভাবনাও ফুটে উঠেছে মণ্ডপে। দেখানো হয়েছে চিৎপুর ও মেদিনীপুরের যাত্রা সংস্কৃতির সমন্বয়। এর পাশাপাশি লাল-হলুদ উলের কাজও নজর কাড়বে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মায়ের মূর্তি গড়েছেন কৃষ্ণনগরের শংকর পাল। মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে সমাজকে অবক্ষয় ও নির্যাতনের অন্ধকার থেকে নতুন আলোর পথে নিয়ে যাবেন মা। উদ্যোক্তাদের কথায়, এবার একটু নতুন আঙ্গিকে পুজো করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করছি, মানুষের মনে দাগ কাটবে।



