স্বপন দাস, কাকদ্বীপ; সুন্দরবনের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি কবিতার আঙ্গিকে সেজে উঠছে কাকদ্বীপের পূজা মণ্ডপগুলি। থিমের লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দিতেও প্রস্তুত তারা। এবছর কাকদ্বীপ বালক সংঘের পুজোর থিম সুন্দরবনের সোহাগ ও সংগ্রাম। জীবন ও জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনবাসী প্রতি মুহূর্ত প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছে। এই প্রকৃতিই আবার তাঁদের দু’হাত ভরে সম্পদ উজাড় করে দিয়েছে। প্রকৃতি থেকেই এখানকার বাসিন্দারা মধু, নদী ও সমুদ্রের মাছ সহ বিভিন্ন সম্পদ সংগ্রহ করেন। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা থাকছে। এ বিষয়ে পুজো কমিটির এক কর্মকর্তা দেবরূপ সাউটিয়া বলেন, এবছর তাঁদের পুজো ১৬ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রকৃতির বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে কাকদ্বীপ বিধান সংঘের এবছরের থিম কবি জসীম উদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ নকশি কাঁথার মাঠ। গ্রামীণ পটচিত্রের মধ্যে কবির কাব্যগ্রন্থের দুই চরিত্র রূপাই ও সাজুর জীবন কাহিনি নকশি কাঁথার নকশার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। সংঘের কোষাধ্যক্ষ কল্যাণ রায় বলেন, এ বছর তাঁদের পুজো ৩০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে কবির একটি কাব্যগ্রন্থের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কাকদ্বীপ অমৃতায়ন সংঘের এবছরের থিম সুন্দরবন। এখানে কৃত্রিম গাছের মাধ্যমে মণ্ডপের ভিতরে জঙ্গলের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হরিণ, বাঘ সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীকে বসে থাকতে দেখা যাবে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেবী দুর্গার প্রতিমা উপস্থাপনা করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মিন্টু মণ্ডল বলেন, এবছর পুজো ৪০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মণ্ডপে জঙ্গলের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
পদ্মের জলাশয়ের ভিতরে দেবীকে উপস্থাপনা করা হয়েছে কাকদ্বীপের রবীন্দ্র সংঘের মণ্ডপে। এখানে মণ্ডপের ভিতরে পদ্মের কুঁড়ি থেকে ফোটা ফুল তুলে ধরা হয়েছে। পূজা কমিটির এক কর্মকর্তা রূপা পাত্র বলেন, এবছর সংঘের পুজো ২৭ বছরে পদার্পণ করেছে। সংঘের তরফে বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক কাজকর্মও করা হয়। নিজস্ব চিত্র



