নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ককরোচ আন্দোলনের আতঙ্কে শুক্রবার থেকেই যখন ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি হয়েছে, ঠিক তখনই কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশকে তুলোধোনায় নামল জেন জি। একদিকে ককরোচ জনতা পার্টি, আর অন্যদিকে বাম যুব নেতানেত্রীরা। বার্তা একটাই, এই প্রজন্ম আর পিছিয়ে যাবে না। অভিজিৎ দিপকের সরাসরি হুমকি, ‘জেন জির আতঙ্কে গোটা দেশ শাটডাউন করতে হবে। এছাড়া সরকারের পালানোর আর কোনো রাস্তা নেই।’ এদিন মুম্বই বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিপকে। সেখানেই তিনি বলেন, ‘সরকার ভয় পেয়েছে। দেশের যুব সমাজকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন। তাই সর্বত্র বিধিনিষেধ জারি হচ্ছে। যতই নিষেধাজ্ঞা থাকুক, শনিবার যন্তরমন্তরে আমরা পৌঁছাবই। কেউ আটকাতে পারবে না।’ দিপকের চ্যালেঞ্জ, ‘যদি ক্ষমতা থাকে, আমাকে গ্রেপ্তার করুক।’
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সিজেপি সমর্থক কিংবা বিক্ষোভ সমর্থনকারী অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীকে আটক করা হচ্ছে। দেশজুড়েই ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য দিল্লিগামী বাস রাস্তায় থামিয়ে যুবক-যুবতীদের আটক করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বের বড়ো অংশ গৃহবন্দি। এমনকি বিভিন্ন অবিজেপি ছাত্র-যুব সংগঠনের কার্যালয়ে হানা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বৃহস্পতিবারই দাবি করেছেন, ১০ হাজারেরও বেশি নেতা, কর্মী, সমর্থককে আটক করা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার একটি ভিডিয়ো বার্তায় মোদি সরকার এবং দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। বলেছেন, দেশে খুল্লামখুল্লা জরুরি অবস্থা চলছে। আমরা কোনোমতেই পিছু হটব না। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় একইভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক অথবা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আন্দোলন দমন করা যায়নি। ইংরেজরা শেষমেশ ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। যা খুশি হয়ে যাক, আমাদের পিছু হটার প্রশ্নই নেই।’
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নেহার আরজি, ‘যেখানেই বাধা পাবেন, সেখানেই ধরনায় বসে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হবেন। এসআইআর প্রত্যাহারের ইস্যুতে সোচ্চার হবেন। জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে।’ দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন কড়াকড়ির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে বাম দলগুলিও। এদিন সিপিএম, সিপিআই সহ সবক’টি বাম দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মোদি সরকারের বিরোধিতায় একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জেন জি আন্দোলন দমানোর জন্য দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। এবং স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘ছোটো’দের আন্দোলনে সর্বতোভাবে পাশে থাকবে ‘বড়ো’রাও। হয় এসপার, না হলে ওসপার। স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কার মেঘ প্রবল হয়ে উঠতে শুরু করেছে সরকার এবং দিল্লির পুলিশ-প্রশাসনের অন্দরে।



