


সমীর সাহা, নবদ্বীপ: ঢাকিদের শিল্পীর সম্মান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তর্ভুক্ত করেছেন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে। নবদ্বীপের দাসপাড়ার ঢাকিরা তাই মমতায় মুগ্ধ। সরকারে তৃণমূলকে ফেরাতে ঢাকের বোল তুলে প্রচার শুরু করেছেন তাঁরা। বিজেপির কোনো আশ্বাসই মন গলাতে পারছে না তাঁদের। এর আগেও ভোট এসেছে, ভোট গিয়েছে। কিন্তু দাসপাড়া কোনো কালেই এভাবে সরাসরি ভোট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়নি। এবার ঢাকিদের এই অবস্থান একদিকে যেমন অক্সিজেন জুগিয়েছে তৃণমূলকে, অন্যদিকে চাপে ফেলে দিয়েছে বিজেপিকে। নিজেরা প্রচার করার পাশাপাশি, নবদ্বীপের তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার হয়েও প্রকাশ্যে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন ঢাকিরা। তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন।
দাসপাড়ার প্রবীণ ঢাকি সুধীর দাস, কার্তিক দাস, সুনীল দাস, গণেশ দাস এবং রাজু দাসরা বলছিলেন, আমাদের শিল্পীর মর্যাদা দিয়েছেন দিদি। সাম্মানিক ভাতাও দিচ্ছেন। এছাড়া নবদ্বীপের সার্বিক শান্তি রক্ষা এবং সবাইকে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে পুণ্ডরীকাক্ষবাবুর (নন্দ) অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই আমরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছি। নবদ্বীপ পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মালঞ্চ পাড়ার দাসপাড়ায় প্রায় দেড়শো পরিবার ঢাক বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইতিমধ্যেই ৭০টি ঢাকি পরিবার ভাতা পাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে নানা সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছে। এখানকার ঢাকিরা বিভিন্ন পুজো পার্বণে ঢাক বাজিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। তবে সারা বছর কাজ থাকে না। সংসার চালাতে অন্য সময়ে কেউ ভ্যান রিকশ চালান, কেউ সবজি বিক্রি করেন, কেউ টোটো চালান, কেউ বা দিনমজুরি করেন। স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি তাঁদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। অকপটে সে কথা স্বীকারও করছেন তাঁরা। মালঞ্চ পাড়ার বাসিন্দা ঢাকি অসীম দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জন্যে আমি শিল্পী ভাতা পাচ্ছি। আমার স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আমার মা বার্ধক্য ভাতা, আমার দুই ছেলে যুবসাথী পাচ্ছে। সব মিলিয়ে মাসে হাজার ছয়েক টাকার বেশি তো পাই। বিজেপি এলে এসব পাব না। আমরা চাই মমতাদি আবার ক্ষমতায় আসুন। দাসপাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ প্রভাতী দাস বলেন, বিজেপি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। আমরা সেসব বিশ্বাস করি না। ওদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনোটাই রক্ষা হতে দেখিনি। মালঞ্চ পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বাবু দাস ও তাঁর স্ত্রী জোৎস্না দাস বলেন, তৃণমূল সরকার কাজ করেছে। পিছিয়ে পড়া এই এলাকায় রাস্তাঘাট, আলো, অনেক কাজ হয়েছে। আর এক গৃহবধূ বুলটি দাস বলেন, আমার স্বামী শিল্পী ভাতা পাচ্ছেন। আমিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছি। আমার মেয়ে যুবসাথীর জন্য দরখাস্ত করেছে। সব থেকে বড় কথা শান্তি বিরাজ করছে।
নবদ্বীপ পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বৃন্দাবন মণ্ডল বলেন, এই এলাকায় বিভিন্ন দেড়শো ঢাকি পরিবার আছে। এইসব বাদ্যকাররা শিল্পীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। ৭০ জন ঢাকি ‘শিল্পী ভাতা’ পাচ্ছেন। প্রায় দেড়শো জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা পান ২৫ জন। যুবসাথী ভাতা পাচ্ছে ২০ জন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ঘরে ঘরে করে দেওয়া হয়েছে। একদিকে ষষ্ঠবারের জন্য তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহাকে জয়যুক্ত করতে আর অন্যদিকে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য ওরা প্রচারে বের হচ্ছেন।