নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তিনি ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে তাঁর পদাবনতি ঘটিয়ে করল হস্টেল সুপার। সেইসঙ্গে মাইনের ৬০ শতাংশ প্রদান করা হবে। গ্রস স্যালারির বাকি ৪০শতাংশ কাটা যাবে। কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজের ঘটনা। গত ২৩মে থেকে ওই কলেজে টানা গরহাজির ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) গোপালকৃষ্ণ অধিকারী। তিনি শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর-২অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতিও। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা হওয়ার সুবাদে কোলাঘাটে নিজের কলেজে তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর কাজকর্ম নিয়ে বিস্তর অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিলই। কিন্তু, মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া উপায় ছিল না। গত ৪মে পালাবদলের পর অবশ্য চুপসে যান ওই নেতা। তারউপর ২১মে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বুড়ারি এলাকায় তৃণমূল কগ্রেসের একটি অফিসের ভিতর থেকে প্রচুর রেশন কার্ড উদ্ধার হয়। এনিয়ে পথ অবরোধ হয়। প্রচণ্ড উত্তেজনা ছড়ায়। তারপর গোপালকৃষ্ণ সহ আট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। সেই ঘটনার পর ২৩মে থেকে উধাও হন ওই তৃণমূল নেতা। তিনি পেশায় কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি কলেজের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ছিলেন। পুলিশ দু’দফায় কোলাঘাট থানার বাঁশদা গ্রামের তাঁর বাড়িতে এবং কোলাঘাট টাউনশিপে তাঁর কোয়ার্টারে হানা দেয়। কিন্তু, মোবাইল বন্ধ করে এলাকাছাড়া থাকায় তাঁর নাগাল পায়নি কোলাঘাট থানার পুলিশ।
গ্রেপ্তারি এড়াতে প্রায় চার মাস ওই নেতা এলাকার বাইরে ছিলেন। এদিকে, কলেজে কর্তৃপক্ষ তাঁর বাড়িতে শোকজ চিঠি পাঠায়। তিনি চিকিৎসাজনিত কারণে গরহাজির বলে জবাবি চিঠি দিয়েছিলেন। তারপর হুগলির তারকেশ্বর এলাকার এক নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত আন্যাস্থেটিস্টের মেডিক্যাল রিপোর্ট কলেজে পাঠিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট নিয়েতদন্ত করতে একটি এনকোয়ারি কাম ডিসিপ্লিনিয়ারি কমিটি গড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই কমিটি ১সেপ্টেম্বর তাঁকে ডিমোশন করিয়ে হস্টেল সুপার হিসেবে নিযুক্ত করার সুপারিশ করে। তারপর ২সেপ্টেম্বর তাঁকে ডিমোশন করিয়ে কলেজে যোগ করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেইমতো কলেজের ডিরেক্টর দিলীপকুমার গায়েন গত ২সেপ্টেম্বর গোপালকৃষ্ণ অধিকারীকে একটি চিঠি দেন। তাতে কলেজের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে থাকা ওই তৃণমূল নেতাকে হস্টেল সুপার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এই মুহূর্তে কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজে গভর্নিং বডি নেই। সরকার বদলের পর এখনও নতুন গভর্নিং বডি তৈরি হওয়ার কথা। এই অবস্থায় ডিরেক্টর গোপালবাবুকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাঁকে অস্থায়ী হিসেবে হস্টেল সুপার পদে যুক্ত করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে গ্রস স্যালারির ৬০শতাংশ দেওয়ার অনুমোদন করা হচ্ছে। নতুন গভর্নিং বডি তৈরি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত পেশ করা হবে।
এনিয়ে কলেজের রেজিস্ট্রার সত্যজিৎ ভুঁইয়া বলেন, আমাদের কলেজে এখনও গভর্নিং বডি তৈরি হয়নি। আপাতত অস্থায়ী হিসেবে গোপালকৃষ্ণ অধিকারীকে একটি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এটা করা হয়েছে। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গন্য হবে। এনিয়ে গোপালকৃষ্ণকে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।